ঐতিহ্য হারাচ্ছে কাঁসা-পিতল

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে কাঁসা-পিতল সামগ্রী গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে নিত্য ব্যবহৃত সামগ্রী হিসেবে দেখা যেত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসবের ব্যবহারে ভাটা পড়েছে। ঢাকা জেলার বৃহত্তম উপজেলা ধামরাই এলাকা কাঁসা-পিতলের জন্য বিখ্যাত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে ধামরাইয়ের কাঁসা-পিতল শিল্প বেশ বদলে গেছে। কাঁসার সামগ্রী ব্যবহার করার মাত্রা কমে গেলেও সৌখিন মানুষের কাছে এর চাহিদা যেন আগের মতোই আছে। ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবেও ইদানীং ব্যবহার করা হয় কাঁসা-পিতলের সামগ্রী। বাহারি কত কিছু পাওয়া যায়, শোপিস থেকে শুরু করে ওয়াল ম্যাট, টব, বিভিন্ন ধরনের গ্লাস, থালা, বাটি, কাজলদানি, চামচ, হুক্কা, কলস, ঘণ্টা, গামলা, চামচ, বালতি, ডেগ, কড়াই প্রদীপ, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, সংগীত সাধনার যন্ত্র, খেলনা, আয়নার ফ্রেম ইত্যাদি। শুধু যে এগুলো তৈরি করেই তারা ক্ষান্ত নয়। তাদের থেকে বাদ পরেনি বনের বাঘ, সিংহ, হাতি, ঘোড়া, হরিণ থেকে শুরু করে মাছ, ডলফিন, হাঙর, তিমিসহ বাদ্যযন্ত্রের শোপিস, বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনের প্রতিলিপি তৈরি হয় ঘর সাজাতে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সামগ্রীর মধ্যে ঘণ্টা, কাশি, করতাল, মূর্তি, তুলসিপত্র, পঞ্চপ্রদীপ, পুষ্পথালা, ঘটি, গোলাপ পানির পাত্র, আগরদানিসহ বিভিন্ন তৈজস পাওয়া যায়। থিমভিত্তিক নকশা করা হয় এসব সামগ্রীতে। ফুল-পাতা ও জ্যামিতিক নকশাও হচ্ছে।

কাঁসার সামগ্রী ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে এবং পিতলের সামগ্রী ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওজন ছাড়াও সূক্ষ্ম নকশার ওপর দাম কম-বেশি হতে পারে। এ ছাড়া ফুলদানি ৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকা, ফুলের টব ১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, টবের স্ট্যান্ড ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, বাতির শেড ১৫ হাজার টাকা, কলস (হালকা নকশা) ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। কলস (ভারী নকশা) ১ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা ও ওয়ালম্যাট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া আকার, নকশা ও ওজনভেদে বিভিন্ন সৌখিন পণ্য ও শোপিস কিনতে পারবেন ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

এত সময় দিয়ে যে শিল্পটি আমাদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছিল সেই শিল্পটি আজ বিলুপ্তির পথে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকতে পারছে না এই ধামরাইয়ের কাঁসা-পিতল শিল্প। ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, একসময় না জানি কত শত গল্প-গান, প্রেম-বিরহ আর স্মৃতি জড়িয়ে ছিল এই শিল্পটি ঘিরে। হয়তোবা কাঁসা পেটানোর শব্দে একসময় দিন-রাতে মুখর থাকত এ গ্রাম।

সে মুখরতা, আজ মিলিয়ে গেছে। প্লাস্টিকের জিনিসপত্র তৈরি হওয়ায় কাঁসা-পিতল ক্রয়ে বেশ ভাটা পড়েছে।

 

 

"