শিবগঞ্জের ৪০ হাজার মানুষের নিত্য দুর্ভোগ

৪৭ বছর ধরে সাঁকোয় পারাপার

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুরের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খাল পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। প্রায় ৪৭ বছর আগে সাঁকোটি নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। এরপর থেকে নষ্ট হলে আবার চাঁদা তুলে নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশা ডানা বেঁধেছে সাঁকো পারাপারকারীদের মধ্যে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শংকরমাদিয়া গ্রামের মধ্যে চালের ডালার ওপর বাঁশের সাঁকোটির ওপর দিয়ে মানুষ অতিকষ্টে পারাপার হচ্ছেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৩ ফুট প্রস্থের ওই সাঁকো দিয়ে উপজেলার মোবারকপুর, কানসার্ট ও চককীর্তি ইউনিয়নের শংকরমাদিয়া, চাতরা, শিবনগর, ত্রিমোহনী, গোয়াবাড়ি চাঁদপুর, রানীবাড়ি, সাহেবগ্রাম, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, বরগুনাসহ ১২-১৩টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন।

শংকরমাদিয়া গ্রামের আবদুর রশিদ জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে তৈরি সাঁকো দিয়ে অতিকষ্টে হেঁটে মানুষ পার হতো।

সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল আলিম জানান, স্বাধীনের কয়েক বছর পর থেকে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের গণ্যমান্যদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে প্রতি বছরই দেড় লাখ টাকার বাঁশ কিনে নিজ শ্রমে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করা হয়।

শংকরমাদিয়া গ্রামের রমজান আলী (৯৫) বলেন, অনেক নেতাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কেউ একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেননি। যদি শেষ বয়সে ব্রিজটি দেখে যেতে পারতাম, তবে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। তার দাবি, সাঁকোটির দক্ষিণের গ্রামে অনেক আপনজন থাকলেও সাঁকোর ওপর যেতে না পারায় তাদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুর রহমান মিঞা বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য আগামী উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় বিষয়টি তুলে ধরব। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, সাঁকোটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে এখন জানলাম, সরাসরি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিবগঞ্জ উপজেলায় নদী বা দাঁড়ার ওপর কোনো বাঁশের সাঁকো থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থাকে অধিকতর উন্নত করা হবে।

 

"