ক্রীড়া ডেস্ক

  ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

মৃত্যু পরবর্তী ম্যারাডোনা

‘ফুটবল ঈশ্বর’ কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান আর্জেন্টিনা। দেশটিতে এরই মধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

আর্জেন্টিনায় তিগ্রের নিজ বাড়িতে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

------
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, সারা বিশ্বে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। দেশে দেশে ভক্তরা ফুটবলের এই জাদুকরকে নানাভাবে স্মরণ করছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ পরশুই দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ম্যারাডোনার মৃত্যুর দিন থেকেই তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দেজ বলেছেন, ‘আমি ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবরটি যখন পাই, তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আর্জেন্টিনার মানুষ সবচেয়ে বাজে খবরটি পেল। আমি বিপর্যস্ত। অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখ ভারাক্রান্ত। আমি ম্যারাডোনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনেই ম্যারাডোনার লাশ রাখা হয়েছে। সেখানে তার প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণের জন্যই এটি করা হয়েছে। তবে তার লাশে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। সব আলামত বলছে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

তার নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ

ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় নাপোলির ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চড়িয়ে মাঠ মাতিয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তার সম্মাননায় জার্সিটিই চিরতরে তুলে রেখেছে নাপোলি। এবার তার স্মরণে নিজেদের স্টেডিয়ামের নামটাই পাল্টে ফেলছে ইতালির ক্লাবটি। তাদের স্টেডিয়ামের নতুন নাম রাখা হবে সান পাওলো-ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। নাপোলি প্রেসিডেন্ট অরেলিও ডে লরেন্টিস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরশু রাতে ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই নাপোলির রাস্তায় ভক্ত-সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল এক চিত্রকল্পের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে স্মরণ করেন ক্লাবের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে।

নাপোলির প্রেসিডেন্ট ডি লরেন্টিস তখনই এক ঘোষণায় বলেন, ‘আমাদের স্টেডিয়ামের নাম সান পাওলো-ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নেপলসের মেয়র লুইগি ডি ম্যাগিস্ট্রিস এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘ডিয়েগো এই শহরের মানুষদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন, নেপলসকে পুনর্জাগরিত করেছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে আমরা সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছি। তিনি নেপলসের নাগরিক। আমরা তাকে ভালোবাসি। নেপলস তাকে ভালোবাসে।’

তার ছোঁয়ায় সেরাদের কাতারে নাপোলি

অবশ্য নেপলসবাসীদের এই সীমাহীন কষ্ট অনুভব করতে হচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো। আগেও একবার তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ খ্যাত আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। প্রিয়জনকে দুবার হারানোর দুঃখটা কেমন, কেবল তারাই হয়তো বলতে পারবেন।

ম্যারাডোনা নাপোলি ছেড়েছিলেন ১৯৯২ সালে। তবে দলটির হয়ে তার শেষবার মাঠে নামার ঘটনা আরো আগের। কারণ নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক মাদক গ্রহণের দায়ে তাকে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ের রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে নাপোলিতে যোগ দেওয়ার আগে-পরে বোকা জুনিয়র্স ও বার্সেলোনার মতো দলেও খেলেছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন ইতালির এই ক্লাবটির জন্য।

নাপোলিতে সাত মৌসুম খেলে দুটি সিরি ‘আ’ ও একটি উয়েফা কাপসহ পাঁচটি শিরোপা জিতেছিলেন ম্যারাডোনা। তার চেয়ে বরং বলা উচিত, ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যেই এই শিরোপাগুলো জিতেছিল নাপোলি। তাতে একটা সাধারণ মানের দল পেয়েছিল জায়ান্ট ক্লাবের স্বীকৃতি। প্রায় তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেনি দলটি। সে কারণে জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতা ম্যারডোনা যতটা আর্জেন্টিনার, ততটাই নাপোলির।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়