গাজী শাহনেওয়াজ
শর্ত লঙ্ঘনের জের
৩৩ আইএসপি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে

লাইসেন্স পেয়েই উল্টোপথে হাঁটা শুরু করেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) সঙ্গে যুক্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। লাইসেন্স নেওয়ার আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পেছনে পেছনে ধরনা দিলেও উল্টো চিত্র দেখা যায় স্বার্থসিদ্ধির পরেই। কিছু শর্ত দিয়ে বিটিআরসি এসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়। অনুমতি পেয়ে সময়ের পরিক্রমায় শর্ত ও গ্রাহক সেবার কথা বেমালুম ভুলে যান তারা। লাইসেন্স পাওয়ার পরই লঙ্ঘন করে লাইসেন্সের শর্ত। এসব স্বেচ্ছাচারিতা থামাতে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। কমিশনের ২০২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির তথ্যমতে, গ্রাহকদের ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তির প্রথমে একটি বৈধ লাইসেন্স থাকতে হয়। এ জন্য একটি সংস্থার অধীনে বিটিআরসির কাছে আবেদন জানাতে হয়। বাছাইয়ের পর যোগ্যরা লাইসেন্স পান। মোট ছয় ক্যাটাগরিতে ৫৫৭টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বিটিআরসি মূলত চার ক্যাটাগরিতে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেন। প্রথমত, সারা দেশ (ন্যাশনালওয়াইড), কেন্দ্রীয় জোন (সেন্টাল জোন), আঞ্চলিক জোন (জোনাল) এবং ‘এ থেকে সি’ ক্যাটাগরির। জাতীয়, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক জোনের লাইসেন্স ফি যথাক্রমে দুই লাখ, এক লাখ ও ১০ হাজার টাকা। আর ‘এ থেকে সি’ ক্যাটাগরির জন্য ফি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা।
আইএসপি লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী, কোনো লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর উত্তীর্ণ হলে তার আগেই পুনরায় নির্ধারিত সময়ের জন্য নবায়ন করতে হয়। আর ক্যাটাগরির নেটধারীদের দুই বছর পর। মেয়াদ শেষে লাইসেন্স নবায়ন না করলে বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করে দেয়। দুই বছর মেয়াদি লাইসেন্সপ্রাপ্তরা সর্বোচ্চ তিনটি থানার মধ্যে আইএসপি সংযোগ দিতে পারেন। তবে মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ‘এ থেকে সি’ ক্যাটাগরির ব্যবসায়ীরা একটি থানার মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে।
মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, জনস্বার্থের ক্ষতি না হলে সাধারণত কারো লাইসেন্স বাতিল করা হয় না। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ এখনো সর্বজনীন হয়নি। এ কারণে সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মূল্য নির্ণয় করা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের সাধ্যের মধ্যে থেকে ব্যবসা করবে তা বলা আছে। সংযোগের নামে অধিক মুনাফা করছে কি না তা-ও তদারকি করা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বিটিআরসির তথ্যমতে, আইএসপিধারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স নবায়ন করাতে আগ্রহ দেখান না পাশাপাশি লাইসেন্সের বার্ষিক ফি তা-ও পরিশোধ করেন না। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গ্রাহকদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কিছুটা ছাড় দেওয়ায় সে সুযোগটি পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি তিন ক্যাটাগরির জাতীয়, সেন্ট্রাল ও জোনাল পর্যায়ের নবায়ন ও বার্ষিক ফি পরিশোধ করা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে একটি অনুরোধ জানায় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ। কিন্তু দেখা যায়, মাত্র নয়টি প্রতিষ্ঠান আবেদনে সাড়া দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, আইডিএস বাংলাদেশ, প্রীতি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, গ্রামবাংলা সিস্টেম লিমিটেড, বিকে-অনলাইন, ঢাকা ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক লিমিটেড, সরোব আইটি লিমিটেড, রেডিসর টেকনোলজিস, লিভ নেটওয়ার্ক লিমিটেড ও পেট্রিয়ট।
এ ছাড়া আবেদনে সাড়া না দেওয়া ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে। যার মধ্যে জাতীয় ১৩টি, কেন্দ্রীয় ১২টি এবং জোনাল আটটি। বাতিল হতে যাওয়া আইএসপিধারী প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে-ইনসফট সিস্টেম, বাংলাদেশ ট্রেড সিন্ডিকেট, পলি আইটি, শিহাব ট্রেডিং হাউস, নিউ ইডিজিই কমিউনিকেশন, র বিডি, ইনটিগ্রেটেড বিসনেজ কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক সিস্টেম, পিপলস টেলিকম, কসমস টেকনোলজিস, বিটুএম টেননোলজিস, সাজিদ ট্রেডিং, ফিবারনেট ও নেক্সট কমিউনিকেশন, সিরিয়াস ব্রডব্র্যান্ড, এরিনা ইনফোটেক, অ্যাডভ্যান্স অনলাইন, দ্রুতি নেটওয়ার্ক, সাইটেক সাইবার নেট, লিংক আইটি ও ডাটা নেট করপোরেশন এবং গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, মেট্রিক্স, গ্রিন গার্ডেন, স্কাই বিডি, ইউরোটেক লিমিটেড, গ্লোবাল ইনফরমেশন, স্পেকট্রা, টাসটেল অনলাইন, ইউনিভার্সিটি অব চিটাগং, মেটাপোর সাইবার, মৌলভীবাজার ব্রডব্যান্ড, রংপুর নেট ও কিউ নর্থ টেকনোলজি।
মন্ত্রণালয়কে দেওয়া বিটিআরসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, বৈধ লাইসেন্সের সংখ্যা ৫৫৭টি। যার মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে লাইসেন্সের সংখ্যা ১২৯টি, কেন্দ্রীয় জোনের ৭১টি, জোনাল ৭৬টি এবং ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পাওয়াদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২২৮টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৩১টি এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ৬৭টি। সম্প্রতি সব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগ নিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার এ উদ্যোগেও সাড়া দেয়নি।
"








































