বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

  ৮ ঘণ্টা আগে

আমার অগ্রাধিকার দুদেশের সুসম্পর্ক

দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদী ও মৃণাল ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাড়ৈ। দীনেশ গতকাল বাংলাদেশে আসার পথে বেনাপোলে বলেন, তার কাজের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-বাংলাদেশের জনগণের সৌহার্দ্য বৃদ্ধি। দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সুসম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া।

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে এপ্রিলের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উভয়পক্ষ সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব দিল ভারত।

৭৫ বছর বয়সি দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রীভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনার মুখে পড়েন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশে প্রবেশ করেই দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না, আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ, একই বাতাস, একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করব। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সুসম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়, তাদের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা, তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

এ সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পোর্টের পরিচালক শামীম হোসেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী এবং বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন।

আগমনের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তাকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস তাকে বরণ করে নেন। দীনেশ ত্রিবেদী লোকসভা ও রাজ্যসভা- উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাল দিল্লি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়