চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) ও দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

  ৮ ঘণ্টা আগে

চুনারুঘাট সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, কুষ্টিয়ায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা

ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বিশেষ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার ৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে গভীর রাতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করছেন বিজিবি সদস্যরা। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয়দের সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। বিজিবি জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সহযোগিতায় সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গুইবিল এলাকার বাসিন্দা করিম হোসেন বলেন, ‘রাতে বিজিবির মাইকিংয়ের কারণে আমরা আরো সচেতন হয়েছি। তারা রাত-দিন সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, এতে আমরা নিরাপদবোধ করছি।’ হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চক-বিলগাতুয়া-প্রাগপুর সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা দ্রুত প্রাগপুর বিওপি ক্যাম্পে খবর দেন। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা-সংলগ্ন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

ওই ১২ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উজির আলীর পরিবারের ৫ সদস্য, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের ৩ সদস্য এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা ও স্থানীয় জনসাধারণ সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রাগপুর বিওপির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়