নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৫ ঘণ্টা আগে

কমেছে হামের সংক্রমণ

উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে দেশজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে হাম পরিস্থিতির এ তথ্য জানা গেছে। এতে জানা গেছে, সংক্রমণ নেমেছে হাজারের নিচে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭ জন। নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৮০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮০৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ মৃত্যুর ৬টিই ঢাকায়। আর একজন মারা গেছে বরিশালে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৫৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরো ৯৩ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৯১ হাজার ৭৮৯ জনের মধ্যে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯০২ জন। অন্যদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৭১ হাজার ৯৭০ জন।

টিকার কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের : সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি টিকা কাভারেজ ৯৯ শতাংশ হওয়ার দাবি করা হয়। তবে ১০ দিন পর প্রকাশিত আরেক বুলেটিনে বলা হয়, আট বিভাগের এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুর বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪২ জনকে। সে হিসাবে টিকার কাভারেজ দাঁড়ায় ১০৩ শতাংশ। তবে এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি হিসাবে যেসব শিশু লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ছিল, তাদের ভিত্তিতেই কাভারেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত সব শিশু সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। তাঁর মতে, সর্বশেষ টিকাদান কর্মসূচির আগে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিশু ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ বাইরে থেকে যেতে পারে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

একই ধরনের মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। তিনি বলেন, টিকার কাভারেজ শতভাগের বেশি হওয়ার দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষ্য, যদি সত্যিই টিকার কাভারেজ শতভাগের কাছাকাছি হতো, তাহলে এতদিনে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসার কথা। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, কোথাও না কোথাও কাভারেজের ঘাটতি রয়েছে।

বয়সভেদে টিকার কার্যকারিতা ভিন্ন: জনস্বাস্থ্য ও টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, জন্মের আগে ও পরে শিশু মায়ের কাছ থেকে কিছু অ্যান্টিবডি পায়, যা জীবনের প্রথমদিকে হাম টিকার কার্যকারিতাকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে।

তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সে হাম টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ, ৯ মাসে ৮৫ শতাংশ, ১২ মাসে ৯০ শতাংশ এবং ১৫ মাসের বেশি বয়সে তা প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছে। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী বয়সে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে: তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুহার আগের তুলনায় কমেছে। তিনি বলেন, হাম একদিনে নির্মূল হবে না। সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। আশা করছি, চলতি মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়