লালমনিরহাট প্রতিনিধি

  ১৫ ঘণ্টা আগে

তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করলেন তিন মন্ত্রী

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন আশা

উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের অন্যতম ভিত্তি তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাটের

হাতীবান্ধায় অনুষ্ঠিত এ সফরে নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সফরে অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ গুরুত্বপূর্ণ সফরের পর স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নদীশাসন কার্যক্রমে নতুন গতি আসার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখেন।

পরবর্তী সময়ে ব্যারাজের অবসর হলরুমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেচব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

তিস্তা ব্যারাজ শুধু একটি সাধারণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়; এটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। একসময় খরা ও পানির সংকটে বিপর্যস্ত এ অঞ্চলে আজ তিস্তার সেচের পানি লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং কৃষকদের জীবনমানেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা তিস্তা নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে স্থায়ী নদীশাসনের জোর দাবি জানান। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ সফরের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা, তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানসহ লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসক এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্ত্রীদের এ গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানিয়েছেন। তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সফল সেচ প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপ্লব, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম। ফলে তিস্তা ব্যারাজ ও এর চারপাশের অববাহিকাকে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়