নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১৫ ঘণ্টা আগে

সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে

- জামায়াত আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় নেতা ও ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করছে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। টিকতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাদের রক্তের বিনিয়েই আমরা সরকারি ও বিরোধী দল হয়েছি। আমি অনুরোধ করব এসব শহীদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন। সরকার ও বিরোধী দল যদি আহত ও শহীদদের অবহেলা করে, তা গাদ্দারির শামিল হবে। সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ শুরু করেছিল, যা এখন বিএনপিও অনুসরণ করছে। জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই ১৯৪৭, ৫২ ও ৭১সহ বিভিন্ন সময় যারা বুক চিতিয়ে সংগ্রাম করেছেন, ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন আমি ওইসব শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিগত নির্বাচনে হাজারো জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর আপনারা ১১ দলীয় জোটকে একটি আসন উপহার দিতে পেরেছিলেন। ভোটের মতো রেজাল্ট গণনা সুষ্ঠু হলে অন্য আসনেও জোটের বিজয় হতো।

তিনি বলেন, অনেকের আমাদের ওপর অভিমান এ রায় কেন মেনে নিলেন। আমরা বলেছি, ১৭ বছর দেশ ছিল স্বৈরাচারের কবলে। মানুষ তো ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, দাঁড়িপাল্লা। একই দিনে দুটি ভোট হয়েছিল। আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় ছিল। আমাদের মার্কা ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। বর্তমান সরকার প্রথমে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিল না। তারা গোপনে ‘না’ এর পক্ষে ছিল। পরে জনরোষের মুখে রংপুরে আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে তিনি (তারেক রহমান) বলেছিলেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। তিনি তো সংসদের নেতা। এ গণভোটে ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মন্ত্রী বলেছে ভোটটা যাতে হয়ে যায়, এজন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছে। এগুলো করলে জনগণের রাজনীতিবিদদের প্রতি সম্মান কীভাবে থাকবে?

তিনি বলেন, যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে সব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন সময় আছে ফিরে আসুন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন। নয়তো জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। ডা. শফিক বলেন, সরকার গঠনের আগে ও পরে আপনারা চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেননি। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেননি, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। কিছু দলকানা মানুষ ও গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।

জামায়াত আমীর বলেন, এ নারায়ণগঞ্জ একসময় প্রাচ্যের ডান্ডি ছিল। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। একসময় এটা সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে পরিণত হয়েছিল। ত্বকী আপনাদের সন্তান, তার হত্যার বিচার কী পেয়েছেন? একজন নেতা ছিল, বলত খেলা হবে। এখন কোথায় খেলছে? অহংকার ভালো নয়। নতুন কোন গডফাদার এখানে তৈরি হোক আমরা চাই না। তিনি বলেন, আমি এখানে আসার আগে ব্যাবসায়ী বন্ধুদের সঙ্গে বসলাম। কী যেন আতঙ্ক তাদের তাড়া করছে। তারা কথা বলতে পারছে না। একজন বলেই ফেললেন আমরা ভালো নেই। চাঁদাবাজরা আমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। দলের নেতা বলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদের পৌঁছে দিয়েছে।

জামায়াত আমীর অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এসব আগের চেয়ে বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে বলা হয়, আমরা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যারা বিভিন্ন নেতার নামের সঙ্গে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা জুড়ে দেয়, তারাই এমন বিভ্রান্তি তৈরি করে। নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডসহ ৭ খুনের মতো ঘটনার বিচার আজও নিশ্চিত হয়নি। তিনি এ বিষয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়