বদরুল আলম মজুমদার

  ১৫ ঘণ্টা আগে

বর্ষার পর শুরু স্থানীয় নির্বাচন

বিএনপির সামনে বহু সমীকরণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপের কথা নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সরকার থেকে দেওয়া হয়েছে। সেই রোডম্যাপ ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ থেকে শুরু হয়ে আগামী বছরজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইসির বিধিমালা অনুযায়ী, এবার স্থানীয় সরকারের তিনটি স্তরে দলীয় প্রতীক থাকছে না। তবে বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলটি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে। অনেকের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলে দলের নির্দেশাবলি ঠিকভাবে পালন করানো জটিল হতে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৬৮টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। পরে কিছু প্রার্থী মাঠ থেকে উঠে গেলেও বিরোধটা ভোট পর্যন্ত ছিল। তাই স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্ধারণে বিএনপিকে বেশ বেকায়দায় ফেলতে পারে। তাছাড়া এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতসহ বিরোধী দল শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর বাইরে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও এবার বিভিন্ন নামে মাঠে প্রার্থিতা দেওয়া বা থাকার চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিতে বেগ পায়, তাহলে নির্বাচনী ফলেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। তাই এবারের স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি কি কৌশল নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট নয়। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল এ নিয়ে ভোট-সমীকরণের ছক কষছেন।

জানা গেছে, দলের একটি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভালো ফল ধরে রাখতে চায় বিএনপি। আশানুরূপ ফল আনতে প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যক্তির জনপ্রিয়তায় গুরুত্ব দেবে দলটি। একইসঙ্গে চলবে তৃণমূলে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও। নেতারা বলছেন, সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুফল স্থানীয় নির্বাচনে আনতে চান তারা। দীর্ঘ বছর পর একটি অনুকূল পরিবেশে স্থানীয় সরকারের সবগুলো স্তরে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তুত দলটি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এ নির্বাচন। এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতারা মাঠে নেমেছেন শক্তিমত্তা জানান দিতে। ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে উপজেলা-পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান অনেকেই। তবে প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে সামনে থাকবে নানা সমীকরণ। প্রতীক না থাকায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং একাধিক প্রার্থী ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ এখন বিএনপির সামনে। তবে প্রতীকবিহীন নির্বাচনে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিএনপি। প্রার্থীকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি জনপ্রিয়তার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যাপারটা যখন আনা হলো, তখন সমাজের মধ্যে একটা বিবাদ সৃষ্টি হলো। ফলে সেটাকে তুলে দেওয়া যথার্থ হয়েছে। এটার সুদূরপ্রসারী ফল হবে ইতিবাচক।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে অবশ্যই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বেশি কাজ করবে। আমাদের প্রার্থী যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। যখনই দলীয় হাইকমান্ডের কাছে কোনো দুর্বলতা দৃশ্যমান হবে, তখন সেটা বাতিলের মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করে কাউন্সিল সম্মেলনে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে।’

ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননের মতো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে পূরণ হওয়ার পথে থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর ব্যপক প্রভাব আশা করছে দলটি। জনগণ বিএনপি নেতাদের বেছে নেবে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো আমরা পূরণ করছি। এসব প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে জনগণ স্বস্তি পাবে বলে আশা করি। এতে জনগণ আগের মতোই আমাদের সমর্থন করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমাজে যারা সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত, তারাই অংশ নেয়। এবারও তাই হবে।’

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা। এরই মধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ব্যানার ফেস্টুন-পোস্টারে ছেয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকা। তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন নেতারা। একই এলাকায় রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেতা। সবাই নিজস্ব অবস্থান থেকে প্রচার চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করবে বিএনপি। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কাউকে কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ক্লিন ইমেজধারীদের। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুগপতের শরিকদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটিও খোলাসা করেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিধিমালা পাস হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনো দলের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে। আলোচনা আছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেও বিএনপির দলগত সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গত ১০ জুন এ বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনো দল বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

বিএনপির প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে। এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়