প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ ঘণ্টা আগে

চুয়াডাঙ্গা-কুড়িগ্রামে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিরোধে বিজিবি

দেশের উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। চুয়াডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়া সীমান্তে গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বিজিবির তৎপরতা এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধে পুশইনের বেশ কয়েকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি এখনো শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চুয়াডাঙ্গা : গতকাল রবিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-গেদে সীমান্তের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর প্রধান পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, বিএসএফের সহায়তায় কয়েকজনকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার কাঁটাতারের ওপারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ভারতের কোন এলাকায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনসহ যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়েও নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে এক নারী, দুই শিশু ও তিন যুবককে এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরো তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে তারা পিছু হটে। বর্তমানে ওই ৯ জন কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএসএফ যাদের বাংলাদেশি দাবি করছে, তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশি হলেও তাদের আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া (দৌলতপুর) : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন গত তিন দিন ধরে শূন্যরেখার কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে ভারতের চরমেঘনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তবর্তী একটি পাটক্ষেতে আটকে রয়েছেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করছে। তবে বিজিবি তাদের পরিচয় যাচাই করছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়া সীমান্তে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পৃথক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। কুষ্টিয়ার বিলগাথুয়া সীমান্তের ১৫০-থ্রি এস সাব-পিলার এলাকায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিজিবি পুশইনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। তবে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আটকেপড়া ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে সীমান্তে আটকে পড়া ব্যক্তিদের মানবিক দুর্ভোগ বাড়ছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা তীব্র গরম, খাবার ও পানির সংকটের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মানবিক কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ করছেন বলে জানা গেছে। ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়