চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা
জখম ৫ বছরের ছেলে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাত ১১টায় আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি গ্রামে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে ৫ বছর বয়সি এক শিশুসন্তান। এ ঘটনায় এরই মধ্যে অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় হঠাৎ সুজন বড়ুয়ার ঘর থেকে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এরপর তারা এগিয়ে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় ৫ বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন এনি বড়ুয়া। দরজা খুলে বের হতেই মাটিতে ঢলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দেখেন, ভেতরে এনি বড়ুয়ার কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে রয়েছে। প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একইসঙ্গে পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।
এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন ছিল। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সময় আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী-কন্যার লাশ দেখতে পেয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এদিকে ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সকালে লাশ দুটির সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। এছাড়া শিশুটির শরীরে জখম থাকলেও সে এখন শঙ্কামুক্ত। তিনি আরো বলেন, ‘মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হবে।’ আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
"









































