নড়াইল প্রতিনিধি

  ১০ অক্টোবর, ২০২১

ভালো নেই সুলতানের ‘কন্যা’ নিহার বালা

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের পালিত ‘কন্যা’ নিহার বালা। খ্যাতি পাওয়ার আগে থেকেই শিল্পীকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আগলে রেখেছিলেন। এই নিহার বালাই সুলতানের বাউন্ডুলে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ছবি আঁকার উৎসাহ জুগিয়েছেন। শিল্পীর অসুস্থতায়, দুর্দিনে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে পাশে থেকেছেন, সেবা দিয়ে গেছেন। বাউল স্বভাবের শিল্পী সুলতানকে পারিবারিক পরিবেশে আগলে রেখেছেন। সেই নিহার বালার বয়স এখন ৮৪ বছর। অর্থাভাবে চোখের ছানি অপারেশন করতে পারছেন না। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে অন্ধত্ব বরণ করে রয়েছেন। সরকারিভাবে যে ভাতা পান তার চেয়ে ওষুধ কিনতে খরচ হয় বেশি। অসুস্থ ও অন্ধত্বের কারণে চলাফেরা করতে পারেন না। সারাক্ষণ মৃত্যুর প্রহর গুনছেন নিহার বালা।

জানা যায়, আনুমানিক ১৯৬৮ সাল থেকে শিল্পী সুলতান শহরের কুড়িগ্রাম জমিদারদের একটি পরিত্যক্ত দ্বিতল জরাজীর্ণ বাড়িতে (বর্তমান সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার শিশুস্বর্গ ভবন) থাকতেন। প্রতিবেশী ছিল নিহার বালার চানাচুর বিক্রেতা স্বামী হরিপদ সাহা। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে শিল্পীকে দেখভাল করতেন নীহার বালা। শিল্পী সুলতানকে কাকু বলে সম্বোধন করতেন। শিল্পী তাকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন।

১৯৭৫ সালে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর ছোট ছোট দুমেয়ে নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার জীবনযাপন করছিলেন নীহার বালা। এ সময় শিল্পী সুলতান আমাশয়সহ নানা মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগতে থাকেন। তখনই রোগাক্রান্ত শিল্পীর সেবায় এগিয়ে আসেন নিহার। সেই থেকে নিহার বালা ছোট ভাই দুলাল সাহা এবং শিশু দুকন্যা বাসনা ও পদ্মকে নিয়ে শিল্পীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৪ সালে সুলতানের মৃত্যর পর শিল্পীর ছোট চিড়িয়াখানার পশুপাখি নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা চিড়িয়াখানায়। ২০০৪ সালে শিল্পীর বাড়িতে তৈরী হয় সংগ্রহশালা। এ সময় বাড়ির সৌন্দর্য রক্ষার কথা বলে নিহার বালাকে সেখান থেকে সরিয়ে দুই কামরার একটি টিনের ঘর দেওয়া হয়। সেখানেই থাকছেন তিনি।

আজ শিল্পী নেই। নানা দুঃখ-কষ্টে বেঁচে আছেন তার আদরের পালিত কন্যা নিহার বালা। শিল্পীর জীবন সম্পর্কে জানতে তিনিই একমাত্র জীবন্ত সাক্ষী।

নিহার বালা সাহার নাতি সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার অফিস সহায়ক নয়ন সাহা জানান, দিদা সরকার থেকে ভাতা পান ৫ হাজার টাকা। আমি সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা থেকে পাই ৪ হাজার টাকা। স্ত্রী-পুত্র ও দিদাকে নিয়ে চারজনের সংসার। প্রতি মাসে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের জন্য ওষুধের পিছনে খরচ হয় সাড়ে ৬ হাজার টাকার মতো।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে চিকিৎসার জন্য দিদাকে প্রতিবছর প্রথমে ৩৫ হাজার পরে দুবার ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। ২০১৪ সাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে গুণি মানুষ হিসেবে ১ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। আর কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি।

অসুস্থ নীহার বালা এ প্রতিনিধিকে জানান, সুলতানের শিশুস্বর্গ বেঁচে থাকুক। সুলতানের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হোক, এটাই আমি চাই। আমার জীবনের শেষ দাবি, আমি যে বাড়িতে বসবাস করছি সেটি আমার নামে লিখে দেওয়া হোক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তার অসুস্থতার বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে। শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তার চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যাপারে কি করা যায় সেটা নিয়ে কথা বলব।

বরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট শহরের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তার প্রয়াণ ঘটে। আজ এই শিল্পীর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close