নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাজল স্কুলের ঘণ্টা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দেড় বছর বন্ধের পর স্কুল-কলেজ খুলছে আজ। সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতিও শেষ করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও আঙিনা পরিষ্কার, বেঞ্চ গোছানোর কাজ শেষ। আজ বাজল ‘প্রতীক্ষার’ ঘণ্টা।

এ দিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে আগেই। বিশেষ করে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা আনন্দ।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনার আলোকেও আজ খুলছে স্কুল।

এ দিকে স্কুল খোলার পর কীভাবে চলবে সে সংক্রান্ত ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলোর উল্লেখযোগ্যা হলো দৈনিক সমাবেশ বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ দূরত্ব রেখে নিজেদের আসনে বসে শারীরিক কসরত (পিটি) করবে। কেউ প্রয়োজন মনে করলে পিটি করা থেকে বিরত থাকতে পারবে। শিক্ষার্থীরা ‘জেড’ বিন্যাসে বসবে। প্রতি বেঞ্চে একজনের বেশি বসবে না।

শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে একাধিক দলে ভাগ করে একাধিক কক্ষে একাধিক শিক্ষকের সহায়তায় পাঠদান চালাতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম সপ্তাহের ৬ দিন চলবে। আর অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন আসবে। একই দিনে একই সময়ে সর্বোচ্চ দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার ব্যবস্থা রেখে টিফিন বিরতি ছাড়া কার্যক্রম চলবে। সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রমে দলীয় কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন কাজ আপতত বাদ দিতে হবে।

শিক্ষকরা মাস্ক পরে ক্লাস নেবেন। শিক্ষার্থীদেরও মাস্ক পরা নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া ক্লাস শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারিবদ্ধভাবে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একত্রে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে একের পর এক কক্ষের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ত্যাগ করবে।

এদিকে স্কুল খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ১৯টি দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করেও পারেনি। এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার তালিকার শীর্ষে আছে বাংলাদেশ ও ভেনিজুয়েলা। অনেক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে, আবার পরিস্থিতির কারণে বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকা শহরে কমপক্ষে দুই হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, যার অধিকাংশই আর খুলবে মনে হয় না। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যেসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছিল তার মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্র অন্যতম। এই কোভিডকালে তার সবকিছুই প্রায় হারিয়ে গেছে। স্কুল পর্যায়ের প্রায় ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী আর স্কুলে ফিরবে না বলে ধারণা করা হয়, যার অধিকাংশই ছাত্রী। কারণ বাল্যবিয়ে।

আবদুল মান্নান আরো বলেন, স্কুল খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর করতে দরকার সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টা। শুরু হবে স্কুল পর্যায় থেকে। তবে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয় খোলার বিস্তারিত প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি কী হবে। বলা হয়েছে, প্রথমে এসএসসি, এইচএসসি আর পঞ্চম

শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পালা করে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসে আসবে। অন্যরা সপ্তাহে একদিন পালা করে সপ্তাহে ক্লাসে আসবে। প্রাক-প্রাইমারি আপাতত বাড়িতে থাকবে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর তা খোলা হবে সবার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close