নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৪ আগস্ট, ২০২১

লম্বা হচ্ছে কর্মহীন মানুষের লাইন

করোনাভাইরাস মহামারির এই দুর্যোগে অনেকের কাজ নেই। শ্রমজীবীরা হয়ে পড়েছেন অসহায়। কম দামে পণ্য কিনতে মানুষ লাইন দিচ্ছেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের পেছনে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, রামপুরা, বনশ্রী ও বাসাবো মাদারটেক এলাকায় টিসিবির পণ্যের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কয়েকশ মানুষকে। সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে তারা রোদের মধ্যেই অপেক্ষা করছেন। দক্ষিণ বনশ্রীতে বাদশা নামের এক ক্রেতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তাই এখানে পণ্য কিনতে আসি।

টিসিবি সূত্র বলছে, ঈদের পর টিসিবির পণ্য বিক্রি হওয়ার কথা ছিল না। এরপরও সীমিত আকারে গত ২৬ জুলাই থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছিলেন আলম হোসেন (৭১)। তিনি প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে এসেছেন। এত দূরের পথ হেঁটে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। ছায়ায় বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দিন আমাদের এলাকায় এই ট্রাক যাইত। কিন্তু আইজ (আজ) নাই। একটু আগায়া দেখি শাপলা চত্বরও নাই। আর একটু আগায়া দেখি দৈনিক বাংলার মোড়েও নাই। এমন করিয়া আগাইতে আগাইতে প্রেস ক্লাব এলাকায় আসি ট্রাক পাছি। কিন্তু এই গরমোত হাঁটতে হাঁটতে শরীরটা ভাঙি গেল।’

প্রেস ক্লাব এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বইয়ের দোকানের এক কর্মচারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই ব্যক্তি বলেন, ‘দোকান বন্ধ। মাঝে মধ্যে খোলা থাকলেও বই বিক্রি নেই। অনেক কষ্টে থাকতে হচ্ছে। টিসিবির পণ্য প্রায়ই কিনি। ৩টি পণ্য কিনে বাজার থেকে প্রায় ১১০ টাকা কম পড়ল।’

বনশ্রীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেন, স্ত্রীসহ তিনজনের ছোট সংসার। তাই চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। করোনার আগে বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রী দোকানে দোকানে পৌঁছে দিতেন। দুজন কর্মচারীও ছিলেন। এখন এসব বন্ধ হয়ে গেছে। আয় ণ্ডরোজগারও নেই। জমানো টাকা দিয়ে নিত্যপণ্য কিনতে এখানে এসেছেন।

এদিকে মাদারটেক এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, ট্রাক আসার অনেক আগে থেকেই পণ্য কিনতে নারীণ্ডপুরুষরা জটলা করছেন। নগরের জলকর এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে আসা রোকন মাহমুদ বলেন, ‘কম পয়সায় জিনিস (পণ্য) পাওয়া যায় বলিয়া এটে আসছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা লজ্জায় এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে চায় না বলে নিজেই এসেছি।’

টিসিবির যুগ্ম পরিচালক ও মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, ভর্তুকি মূল্যে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে দেশব্যাপী বিক্রয় হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল এবং চিনি। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ এবং চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে।

এর আগে করোনা সংক্রমণের সময় ভোক্তাদের কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে ৫ জুলাই থেকে ট্রাক সেল শুরু হয় সারা দেশে। মাঝে ঈদের কয়েক দিন সাধারণ ছুটি বাদে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সময় বাড়িয়ে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সারা দেশে টিসিবির ৪০০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৮০টি ও চট্টগ্রাম সিটিতে ২০টি ট্রাক থাকার কথা। এছাড়া প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরেও ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে সব পণ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুর ডাল এবং ৮০০ থেকে ১২০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তি দৈনিক ২ থেকে ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল ও ২ থেকে ৫ লিটার ভোজ্য তেল কিনতে পারবেন।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close