নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

আদেশের অপেক্ষা স্কুল খুলতে

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে একটি গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। এতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়ামাত্র শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রস্তুত থাকতে বলেছে মাউশি অধিদপ্তর।

প্রকাশিত গাইডলাইন অনুসারে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আবার খোলার বাজেট তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল খোলার বিষয়ে আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করেছি। এই গাইডলাইনটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেটা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সব প্রস্তুতি দেখে স্কুল কবে খোলা যায় সে বিষয়ে পরে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

------
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার গাইডলাইনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। ক্লাসরুমের বেঞ্চগুলো স্থাপন করতে বলা হয়েছে তিন ফুট দূরত্বে। পাঁচ ফুটের কম দৈর্ঘ্যরে বেঞ্চে একজন এবং পাঁচ থেকে সাত ফুট দৈর্ঘ্যরে বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থী বসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাইডলাইন অনুসারে ক্লাস করতে পারবে। স্কুলে ঢোকার আগেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে।

কতজন বসবে বেঞ্চে : গাইডলাইন অনুযায়ী, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম হলে প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে সাত ফুট হলে প্রতি বেঞ্চে দুজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। যদি বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট বা তার বেশি হয়, তবে প্রতিটি বেঞ্চে দুজন করে ছয়টি বেঞ্চে ১২ শিক্ষার্থী বসতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার চালুর কয়েকটি ধাপ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার চালুর জন্য কয়েকটি ধাপের কথা বলেছে মাউশি। এই নির্দেশিকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার চালু করার জন্য যে ধাপগুলো বিবেচনা করা হয়েছে, তা হলো

১. নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা করা।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদে চালু করা।

৪. শিক্ষাকার্যক্রম চলাকালে করোনার বিস্তাররোধে পদক্ষেপ নেওয়া।

‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার চালুকরণ’ শীর্ষক নির্দেশিকায় স্কুল-কলেজ খোলার আগে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকর্ষণীয় করাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিফটিং বা পালা করে নিরাপদ দূরত্বে ক্লাসে বসা, প্রথম ১৫ দিন পাঠক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম চালানোর মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি এবং দুই মাসের মধ্যে কোনো পরীক্ষা না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৯ পৃষ্ঠার নির্দেশনাটি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে নতুন স্বাভাবিকতা হিসেবে বিবেচনা করে এই নির্দেশিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংক্রমণের বিস্তার রোধে ব্যবস্থা : কোভিড-১৯ বিস্তার ঠেকাতে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার সময় সবার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষার্থীরা যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলাফেরা করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থারও পরিকল্পনা নিতে হবে।

নিরাপদ শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কতজনকে একই শিফটে এনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে তা পরিকল্পনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে বসাতে হবে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করে। শিক্ষার্থীর চাহিদা ও অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে এবং প্রতিষ্ঠানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে হবে।

আনন্দঘন শিক্ষাকার্যক্রম : দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্ত করার জন্য নিরাপদ ও আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ১৫ দিন শিক্ষাকার্যক্রম কেমন হবে, কতটা সময় শিখন কার্যক্রম এবং কতটা সময় মনোসামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকবে, তার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রথম এক বা দুই সপ্তাহ পাঠক্রমভিত্তিক শিখনের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও পাঠক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মনোসামাজিক সহায়তা এবং মানসিক ও শারীরিক কার্যক্রমের মধ্যে খেলাধুলা, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, গাছ লাগানো ও পরিচর্যা, সংগীতচর্চা, ছবি আঁকা, সামাজিক সেবামূলক কাজ করতে নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রথম দুই মাসের মধ্যে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা বা মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা যাবে না, যা শিক্ষার্থীর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুতকরণ : পরিকল্পনামাফিক প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক প্রয়োগসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্ব বণ্টন, নির্দিষ্ট সময় পরপর ২০ সেকেন্ড ধরে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা এবং দৃশ্যমান স্থানে এ-সংক্রান্ত পোস্টার ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কন্টাক্ট লেন্স থার্মোমিটার স্থাপন এবং তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বাড়িতে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এবং অভিভাবকদের বসার স্থানে তিন ফুট দূরত্বে করতে হবে মার্কিং। সবার জন্য মাস্কের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী মাস্কের জন্য শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বিরত না থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে হটলাইন নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে।

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close