রায়হান আহমেদ তপাদার

  ২০ অক্টোবর, ২০২৩

বিশ্লেষণ

পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট

আবারও সংঘাতে জড়াল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল। তার মানে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। বরাবরের মতো সামনে চলে এসেছে নিজভূমি হারানো ফিলিস্তিনিদের ট্র্যাজিডি। তাই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব। পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলকে সমর্থন করলেও মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু দেশ অবস্থান নিয়েছে ফিলিস্তিনের পক্ষে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায়। আজ থেকে শতবর্ষ আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার বালফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর একটি ছোট্ট পত্র লিখেছিলেন জায়নবাদী নেতা ব্যারন রথচাইল্ডকে। এটি কালক্রমে বালফোর ঘোষণাপত্র নামে পরিচিতি পায়। এর মধ্য দিয়ে তিনি জায়নবাদ নামক উগ্র ইহুদিবাদ বা ইহুদি জাতীয়তাবাদকে স্বীকৃতি দেন, যা এক মহাবিপর্যয়ের দ্বার খুলে দেয়। বালফোর অবশ্য জেনে-বুঝেই কাজটি করেছিলেন। আর বছরটি ছিল ১৮৯৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করা বিশ্ব জায়নবাদী সংস্থার ২০তম বছর। ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনের শাসনভার গ্রহণ করার পর থেকেই সেখানকার ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি আরব অধিবাসীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও দমননীতি শুরু করে। দীর্ঘ মেয়াদে ইহুদিদের জন্য ঈশ্বর প্রতিশ্রুত ভূমি তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ইহুদি সেটেলারদের বিভিন্নভাবে অগ্রাধিকার সুবিধা দিতে থাকে। দলে দলে ইহুদিরা ইউরোপ ও অন্য আরব দেশ থেকে ফিলিস্তিনে পাড়ি জমাতে শুরু করে। ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ মদদেই অভিবাসী ইহুদিদের নিয়ে ১৯২১ সালেই গঠন করা হয় হাগানাহ নামের আধাসামরিক বাহিনী। এরপর আরো দুটি জায়নবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাং গড়ে

ওঠে পড়ে। ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসবাদী বলে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্ব দশকের পর দশক ধরে প্রচারণা চালিয়ে তাদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিচ্ছে, অথচ ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাং একীভূত হয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। তখনকার ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য জাতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আর এই লক্ষ্য অর্জনে তার সর্বোত্তম প্রয়াস প্রয়োগ করা হবে এবং এটাও পরিষ্কার যে এমন কিছু করা হবে না, যা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার কিংবা অন্য কোনো দেশে ইহুদিদের বিরাজমান অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করতে পারে। ১৯৪৮ সালে যেভাবে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনবিরোধী মিছিল সমাবেশ ও প্রচার শুরু হয়েছিল, এবারও ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের সমর্থনে তা শুরু হয়েছে। জার্মানরা ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ববাদী ইহুদি নেতাদের উদ্দেশে স্লোগান দিচ্ছেন, বার্লিন তোমাদের সঙ্গে আছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যেও সেই স্লোগানের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যে একজোট হয়েছে, সেটি মোটেও কাকতালীয় বিষয় নয়। নামিবিয়া, তাঙ্গানিকা, রোডেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, কেনিয়াসহ যত জায়গায় শ্বেতাঙ্গরা উপনিবেশ গড়েছিল, সবখানে তারা একজোট হয়েছিল। এর কারণ হলো তারা প্রচণ্ড রকম বর্ণবাদী। ইসরায়েল যেহেতু একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র, সেহেতু তারা তাদের পাশে থাকবেই। ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সর্বশেষ প্রকাশ পেয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়ভ গ্যালান্টের কথায়। তিনি এক ভাষণে ফিলিস্তিনিদের মানবরূপী জানোয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু এশিয়ায় বর্ণবাদী ও শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সর্বশেষ উপনিবেশ রাষ্ট্র ইসরায়েল, সেহেতু সেই উপনিবেশকে পশ্চিমা শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা টিকিয়ে রাখতে চাইবেই। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধযোদ্ধাদের সঙ্গে হানাদার ও দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের যুদ্ধ দ্বিতীয় দিন গড়াতে না গড়াতেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ইসরায়েলকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার নৌ-সেনাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে রওনা হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসকারী জাহাজ রয়েছে। এই বহরের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষিপ্রগতির এফ-৩৫ বিমানের পাশাপাশি এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-১০ ফাইটার জেট পুরো এলাকা ঘিরে রাখার জন্য যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে এটাই পরিষ্কার হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটির সেনাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব অস্ত্র, সরঞ্জাম ও সেনা শুধু প্রদর্শনীর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় পাঠানো হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের যুদ্ধজাহাজ এই প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি উপনিবেশে পাঠানো হয়েছে, মোটেও তা নয়। সেই ১৮৫৪ সালে এক দল শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান উগ্রপন্থি প্রোটেস্ট্যান্ট জাফায় আমেরিকান মিশন কলোনি গড়ে তুলেছিল। ১৮৫৮ সালে তাদের সেই অবৈধ বসতিতে আদিবাসী ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ করেছিলেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস ওয়াবাশ নামের একটি বাষ্পচালিত নৌবহর পাঠিয়েছিল। তৎকালীন অটোমান শাসকরা যেন মার্কিন নাগরিকদের হত্যার বিচার করেন, সেই দাবিতে তারা ফিলিস্তিনের উপকূলে আমেরিকান পতাকা উড়িয়েছিল। এর দুই দশক পর ফিলিস্তিনের উপকূলে ঘাঁটি গাড়া ধর্মান্ধ জার্মান প্রোটেস্ট্যান্ট উপনিবেশবাদীদের রক্ষার দাবিতে জার্মানরাও একই কাজ করেছিলেন। আঠারোশো সাতাত্তর থেকে আঠারো সালে অটোমান-রাশিয়ার যুদ্ধের সময় টেম্পলারস নামের জার্মান ধর্মীয় ঔপনিবেশিকদের রক্ষায় ফিলিস্তিন উপকূলে জার্মান যুদ্ধজাহাজগুলো ভিড়েছিল। এই টেম্পলারদের বসতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জার্মান ন্যাজার্মান কনসাল অটোমানদের ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়েছিল। ওই সময় টেম্পলাররা ফিলিস্তিনকে একটি প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর আশা করেছিল।

তারা আশা করেছিল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দখল করা ফিলিস্তিনকে জার্মানি তাদের উপহার হিসেবে দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় তারা আশাহত হয়। এর তিন দশক পর ১৯০৮ সালে কনস্ট্যান্টিনোপলে তরুণ তুর্কিদের জাগরণের সময় ফিলিস্তিনি কৃষক সম্প্রদায় জার্মান উপনিবেশে হামলা চালায়। আবারও জার্মানি হাইফা এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠায় জার্মান উপনিবেশকে সহায়তা করার জন্য। এরপর সেখানে আরো কয়েক দফা হামলা চালায় ফিলিস্তিনিরা। ১৯৭৩ সালে মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘটিত যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েল সেই যুদ্ধ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন নথি প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের দখল করা গোলান উপত্যকা ও সিনাই উপদ্বীপ স্বাধীন করার জন্য সে সময় মিসর ও সিরিয়া যুদ্ধে নেমেছিল। সেই যুদ্ধ-সংক্রান্ত নথিতে ইসরায়েলকে সে সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সরাসরি সহায়তা দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সে সময় ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিয়েছিল আমেরিকা। সম্প্রতি জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, আমরা শুরু থেকেই আরবদের জয় ঠেকাতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। কিসিঞ্জারের মতোই বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বর্তমানে চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনেই বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা যা কিছু দরকার, তার সবই করব। আশার কথা হলো, খোদ ইসরায়েলের ভেতর থেকেই এর প্রতিবাদ ও পাল্টা ভাষ্য উঠে আসছে, প্রকৃত ইতিহাস ও তার নির্মোহ বিশ্লেষণ করছেন ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা। এই দলে আছেন বেনি মরিস, শলমো স্যান্ড, ইলান পেপে, অভি শ্লিম, ইয়ায়েল লোটান, ইউরি আভনেরিসহ অনেকেই। জায়নবাদীদের তীব্র সমালোচনা ও অশালীন আক্রমণ তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি, ইসরায়েল রাষ্ট্রের দমননীতি তাদের টলাতে পারেনি। বরং তারা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে ও পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন নিয়ে বৈশ্বিক নিয়মনীতি অবজ্ঞা করে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে উদ্বাস্তু বানিয়ে এবং নিজ ভূমে তাদের অবরুদ্ধ করে ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা পূরণ না করেও ইসরায়েল প্রচণ্ড প্রতাপের সঙ্গে টিকে আছে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে চরম উৎকর্ষ ইসরায়েলের বিকশিত হওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। সামরিক শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিশাল অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। তবে এত কিছুর পরও জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল শান্তিতে নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান ঘিরে তাদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তোলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈশ্বিক মানবাধিকারের বিষয়ে পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সেই সময় বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার আগ্রাসন আর ইসরায়েলের মধ্যে কোনো তুলনা না করেই, এটা পরিষ্কারভাবে বলা যায়, ফিলিস্তিনি জনগণ নিপীড়ক শাসনের অধীনে রয়েছে। দখলদারিত্বের শাসন এবং বর্ণবাদের শাসন। গত কয়েক দিন ধরে এক্স ব্যবহারকারীরা পশ্চিমাদের পুরোনো বক্তব্য-বিবৃতিকে নতুন করে সামনে আনছে। আর এসব বিবৃতিকে তারা পশ্চিমা ভণ্ডামি বলে অভিহিত করছেন। গত বছরের মার্চে আইরিশ আইনপ্রণেতা রিচার্ড বয়েড ব্যারেটের করা মন্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল। ওই সময় তিনি ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আয়ারল্যান্ড সরকারের দ্বিমুখী নীতির নিন্দা জানিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আপনি ভ্লাদিমির পুতিনের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বর্ণনা করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ ভাষা

ব্যবহার করতে পেরে খুশি। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করার সময় আপনি একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন না। আইরিশ এই আইনপ্রণেতা আবারও ‘ইউক্রেনের প্রতিরোধকে সমর্থনকারী, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের নিন্দা জানানো পশ্চিমা নেতাদের দ্বৈতনীতিতে তিনি হতবাক বলে মন্তব্য করেছেন।

লেখক : গবেষক ও কলাম লেখক

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়