reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১০ অক্টোবর, ২০২১

জনপ্রতিনিধি হয়েছেন মানুষ হতে পারেননি

পাঁচ রিপুকে প্রতিহত করে যিনি নিজেকে নির্মাণ করতে পারেন, তিনিই মানুষ। এ রকম মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে বলেই সবার ধারণা। আর এ ধারণা যত বেশি সত্যের দাবিদার হয়ে উঠবে, সমাজ ততই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাবে। তাহলে কি আমরা ক্রমাগত অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! জবাবে বলতে হয়, হয়তো বা হ্যাঁ, হয়তো বা না। তবে এ কথাও সত্য, দেশের কিছু মানুষের জন্য এ প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। পুরো জনসমষ্টি নয়। দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো মানুষ হিসেবে নিজেকে নির্মাণ করতে আগ্রহী এবং করছেনও তাই। কিন্তু ‘এক মণ দুধে এক ফোঁটা চোনা’ই দুধ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। আমাদের দেশে ঘটছেও তাই। এক ফোঁটা চোনাই সব অনিষ্টের মূলে পরিণত হয়েছে এবং এদের সংখ্যাও বাড়ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পাশে দাঁড়াবে, না সংখ্যালঘিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে? সংবিধান বলছে, নিশ্চয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। আমরাও সে কথাই বিশ্বাস করি এবং করতে চাই। কিন্তু বাস্তব চিত্র বারবারই আমাদের সেই বিশ্বাসের ওপর আঘাত হেনেছে।

কথা ছিল, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হবে। সরকার দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রতি ইউনিয়নে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তা নির্মাণ করার কথা। নির্দেশনা রয়েছে টয়লেটটি নির্মিত হবে সরকারি জমিতে এবং জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। শাহজাদপুরে সেই নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে। নির্দেশনার তোয়াক্কা করেননি এলাকার ইউপি সদস্য আবদুল মোমিন। লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিপি-৩) থেকে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বরাদ্দ পান ওই ইউপি সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, ইউপি সদস্য সরকারের নির্দেশিত জায়গায় টয়লেটটি নির্মাণ না করে এক বিত্তশালীর বাড়িতে নির্মাণ করেছেন। আবদুল মোমিন শাহজাদপুর উপজেলার হবিবুল্লাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন, ইউএনও ও শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনায় পাবলিক টয়লেটটি একটি সরকারি জায়গায় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ইউপি সদস্য দরগাহর চর এলাকায় হান্নান নামের এক বিত্তশালীর বসতভিটায় স্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তার বক্তব্যে বলেছেন, সরকারি জায়গা না থাকায় এ জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে।

আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের কেউ যদি রিপু নিয়ন্ত্রণ না করে জীবনযাপন করে, তাতে সমাজের যতটুকু না ক্ষতি হবে, একজন জনপ্রতিনিধি করলে তা বেড়ে যাবে বহু গুণে। এলাকার বড় অংশই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া বিষয়টি সংক্রমিত হবে। কলুষিত হবে সমাজ। দেশে এ ধরনের জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও কম নয়। তাদের এলাকায়ও যে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে না, তার গ্যারান্টি কোথায়? আমরা গ্যারান্টি পেতে চাই। সরকার আমাদের সে গ্যারান্টি দেবে- এটাই দেশবাসী বিশ্বাস করতে চায়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close