আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ৮ ঘণ্টা আগে

ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিল ওয়াশিংটন। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করার সুযোগ পাবে।

মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত একটি বিশেষ অনুমতিপত্রে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রয় ও পরিবহনের ক্ষেত্রে যেসব নিষেধাজ্ঞা বা ট্রানজেকশন নিষিদ্ধ ছিল, তা আগামী ২১ আগস্ট ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম (ইডিটি) রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত বৈধ বা অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, চলমান আলোচনায় বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত চলাচল’ বজায় রাখার বিষয়ে তেহরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ এবং তাঁদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও রাজি হয়েছে ইরান। তাই সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো।

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে যে বৈঠক শুরু হয়েছে, তাতে ইরানের প্রধান দাবিই ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্ববাজারে তাদের তেল বিক্রির পথ সুগম করা। বৈঠক শুরু হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেলের ওপর ৬০ দিনের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলতে থাকা এই শান্তি আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে চুক্তির পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অবমুক্ত হওয়া ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজাত পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

হরমুজ প্রণালি সচল করার উদ্যোগ:

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা শেষে ফেরার পথে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে না গেলেও, ইরান আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলবে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে চুক্তির শর্তগুলো সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘এই আলোচনার কার্যকারিতা নির্ভর করছে চুক্তিতে সম্মত হওয়া বাধ্যবাধকতাগুলোর পূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং নিখুঁত বাস্তবায়নের ওপর। চুক্তির মূল পাঠের বাইরে যেকোনো ধরনের বক্তব্য এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে না।’

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বেশ উত্তপ্ত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মার্কিন-ইরান সম্পর্কের বরফ গলার চেষ্টা এবং অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসী অভিযান—সব মিলিয়ে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়