আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১৩ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালি পুরো বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের ঘটনায় তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। শনিবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত ট্যাংকার চলাচল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে কেশম দ্বীপ ও সিরিকে অবস্থিত আইআরজিসির যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলা হয়েছে।

এর জবাবে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সঙ্গে কোনও ধরনের সমন্বয় ছাড়া এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছে চারটি ট্যাংকার। এ সময় নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা জারির পর ট্যাংকারগুলোর মধ্যে একটিতে হামলা চালিয়ে থামানো হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়।

এই হামলার ঘটনার পর রাত ২টার দিকে কেশম দ্বীপ ও সিরিক দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির দুটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট সদরদপ্তরের অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার জবাব সীমিত থাকবে না। তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পরিণতির জন্য মার্কিন-ইসরায়েলি জোট দায়ী থাকবে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ২১ শতাংশ অবশিষ্ট আছে, দাবি ট্রাম্পের:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন প্রায় ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানি তাদের ড্রোনগুলো কোথায় আছে এবং আমরা জানি তাদের ড্রোন কারখানাগুলো কোথায়। বেশির ভাগ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে...এবং বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ইরানের কাছে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, এই প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি সংখ্যা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, তিনি ‘প্রায় নির্দিষ্ট সংখ্যার কাছাকাছি পর্যন্ত’ জানেন, তেহরানের হাতে এখন কত অস্ত্র রয়েছে, কিন্তু সেই তথ্য প্রকাশ করতে চান না। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে। কিছু ড্রোন আছে’ এবং শতাংশের হিসাবে ইরানের হাতে এখন ‘সম্ভবত ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র’ অবশিষ্ট রয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শতাংশ কমে গেলেও এটি এখনো ‘অনেক ক্ষেপণাস্ত্র’, তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে সামরিক সক্ষমতা ছিল, তার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, হামলার কারণে ইরানের সামরিক কাঠামো এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়