প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

অপরাজেয় সেনাবাহিনী গড়বেন কিম জং উন

যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার নীতির মুখে অপরাজেয় সেনাবাহিনী তৈরির অঙ্গীকার করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। কিম জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার্থেই অস্ত্র উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন তারা, যুদ্ধ শুরু করতে নয়। বিরল এক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে মঙ্গলবার এসব মন্তব্য করেছেন কিম। এতে বড় বড় সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। সম্প্রতি দেশটি নতুন হাইপারসনিক এবং উড়োজাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। খবর বিবিসি ও রয়টর্সের।

পিয়ংইয়ংয়ে সেলফ ডিফেন্স ২০২১ প্রদর্শনীতে দেওয়া বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে কিম জং উন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করছি না, বরং যুদ্ধকেই ঠেকাতে চাই আর জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ এড়ানোর সক্ষমতা বাড়াচ্ছি।’

কিম জং উন অভিযোগ করেন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণগত কোনো ভিত্তি নেই যে, উত্তর কোরিয়া বিশ্বাস করবে ওয়াশিংটনের শত্রুতার নীতি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন অবশ্য দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তারা কোনো শত্রুতার নীতি নিয়ে চলছে না।

বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র বরাবর বলে আসছে তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের দাবি করছে তারা। এখন পর্যন্ত তা অস্বীকার করে আসছে উত্তর কোরিয়া।

জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আসছে উত্তর কোরিয়া। ফলে তীব্র নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে দেশটি।

অস্ত্র প্রতিযোগিতা : দুই কোরিয়াই এখন উন্নত মানের অস্ত্র তৈরি করছে বা কিনছে। তার মধ্যে ছোট পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল আছে। উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রধান পরমাণু রিঅ্যাকটারের সম্প্রসারণও করছে। পরমাণু বোমা বানানোর কাজে তা লাগানো হতে পারে।

অন্য দিকে দক্ষিণ কোরিয়া সাবমেরিন লঞ্চড ব্যালেস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু দেশগুলোর কাছ থেকে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানও কিনেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা আছে। উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য তাদের রাখা হয়েছে বলে দাবি। গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা যৌথ সেনা মহড়াও করেছে। কিম বলেছেন, এই মহড়া আসলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি।

সম্পর্কের উন্নতি হয়নি : ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন কিম। কিন্তু সম্পর্ক ভালো করার সেই প্রয়াস এক বছরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী, কিন্তু উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, আলোচনার পূর্বশর্ত হলো, তাদের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা আগে তুলে নিতে হবে। সেইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে সামরিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close