রংপুর ব্যুরো
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ

দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নুরজাহান বেগমের বিচার, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে শ্রমিক অধিকার আন্দোলন এবং নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়।
শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, সবুজ রায়, মসিউর রহমান, নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের সদস্য পারভীন আক্তার, সুলতানা আক্তার, রিতা সিদ্দিকী
প্রমুখ। বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা হস্তান্তরের ৩ দিন আগে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে আমেরিকার সঙ্গে অধীনতামূলক গোলামীর বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে সংসদে সরকারি দল কিংবা বিরোধীদল কেউ কোনো কথা বলছে না।
এই চুক্তি বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আমেরিকার জালে বন্দি করার নামান্তর। দেশের অর্থনীতি, সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে কোনো স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের এমন চুক্তির নজির নেই। নেতারা আরো বলেন, তৎকালীন ইউনূস সরকারের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সময়মতো হামের টিকা না দেওয়ায় এখন পর্যন্ত ৬ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নুরজাহান বেগম এই শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। অবিলম্বে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নুরজাহান বেগমের বিচার করতে হবে।
নেতারা ৬ শতাধিক শিশু মৃত্যুর পরও সরকারের নির্লিপ্ত অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ভয়াবহ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদেশ থেকে টিকা আমদানি করে শিশুদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ইউনিট চালু করতে হবে।
নেতারা, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিল আগামী দুই বছর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করবে না। অথচ চার মাসে দুইবার জ্বালানি তেল এবং বিগত পঁচিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার মুখে সবার আগে বাংলাদেশের কথা বললেও কার্যত জনগণের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। নেতারা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
"






































