প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

বিশ্বজুড়ে স্বামীদের চেয়ে স্ত্রীদের আয় কম

আপনি কি আপনার স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন? এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল বিশে^র বিভিন্ন দেশের উপার্জনকারী নারীদের। অধিকাংশ নারীর সেই প্রশ্নের উত্তর ছিল না। নতুন এক গবেষণায় জানা গেল, বিশ^জুড়েই স্বামীদের চেয়ে স্ত্রীদের আয় কম। খবর বিবিসির।

গৃহস্থালি কাজ, লিঙ্গভেদে মজুরি বৈষম্য নিয়ে বৈশ্বিক এ জরিপ চালায় ভারতের বেঙ্গালুরুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের পাবলিক পলিসি কেন্দ্র। গবেষণার জন্য ১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার দশকে, বিশ্বের ৪৫টি দেশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এতে ২৮ লাখের বেশি দম্পতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত। লুক্সেমবার্গ ইনকাম স্ট্যাডি (এলআইএস) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এতে সহায়তা করেছে।

ভারতের বেঙ্গালুরুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের পাবলিক পলিসি কেন্দ্রের অধ্যাপক ও গবেষক হেমা স্বামীনাথান ও দীপক মলঘান জানান, প্রচলিত দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে দেখা হয়। সাধারণভাবে অনুমান করা হয় যে, একটি পরিবারের আয়ে সমতা বিদ্যমান। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, সেখানে চরম বৈষম্য রয়েছে এবং সেটি বের করতে চাচ্ছি আমরা।

স্বামীনাথান বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে পরিবার হলো একটি অন্ধকার বক্সের মতো। আমরা ভেতরে তাকাই না। ভেতরের দিকে তাকালে বুঝতে পারব কীভাবে দৃশ্যটা বদলে যায়।

আসলে কি লিঙ্গ সমতা রয়েছে? বাড়ির সম্পদ থেকে বাইরের কাজেও কি সমতা চোখে পড়ে? এই দুই গবেষক বিশ্বের চিত্রটা তুলে ধরতে চেয়েছেন গবেষণার মাধ্যমে।

গবেষক দীপক মলঘান বলেন, গবেষণায় দেখা যায়, যখন এক দম্পতির মধ্যে দুজনই চাকরিজীবী, সেটা হোক ধনী কিংবা উন্নয়নশীল দেশ, এ রকম কোনো একটি দেশ নেই যেখানে স্ত্রীরা, স্বামীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। এমনকী যে দেশগুলোতে লিঙ্গবৈষম্য কমের তালিকায় সব সময় নিচের দিকে থাকে।

গবেষণায় আরো উঠে আসে, নারীদের আয় বৈষম্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কারণও রয়েছে। পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবে রোজগারে এগিয়ে থাকে, যেখানে নারীরা বিবেচিত হয় গৃহস্থালির কাজের জন্য। সন্তান জন্মের পর অনেক নারীই চাকরি ছেড়ে দেন বা বিরতি নেন। তাছাড়া মজুরি বৈষম্য তো আছেই। একই কাজের জন্য পুরুষের চেয়ে নারীকে কম মজুরি দেওয়া হয়। অবৈতনিক গৃহস্থালির কাজ ও প্রতিপালনের দায়িত্বও অনেক বেশি নারীদের, পুরুষদের তুলনায়।

আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) ২০১৮ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীরা ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ সময় ব্যয় করে অবৈতনিক কাজে, যা পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এটি ৮০ শতাংশ বেশি। নারীর আয়বৈষম্যে অবৈতনিক কাজই হলো মূল বিষয়।

গবেষকরা বলছেন, নারীদের এ আয়বৈষম্য অর্থনৈতিক অবস্থানসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করে। একজন স্ত্রীর অবদান পরিবারে অদৃশ্যই থেকে যাচ্ছে, যখন অর্থ দৃশ্যমান। সুতরাং একজন নারীর দৃশ্যমান অর্থ উপার্জন পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসার পাশাপাশি সামাজিক অবস্থানও পরিবর্তন হয়। তার অবস্থান পরিবারে শক্ত করতেও সাহায্য করে এটি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close