কে এম রুবেল, ফরিদপুর

  ১০ মে, ২০২১

দেবে যাওয়া মহাসড়ক সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিনেও

ফরিদপুরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন, ঘটছে দুর্ঘটনা

ফরিদপুরে দেবে যাওয়া মহাসড়কের এক পাশের এক কিলোমিটার দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে সব ধরনের যানবাহন। এতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তবে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।

ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া সেতু থেকে শুরু করে দক্ষিণে মুসলিম মিশন কলেজ পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার সড়কের দেবে যাওয়া অংশে সাদা রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবে যাওয়া ওই অংশের গভীরতা ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত। সড়কের পাশে নেই কোনো অ্যাপ্রোচ সড়ক। ফলে বড় বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে যানবাহনের চালক, যাত্রী ও এলাকাবাসীকে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

------
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসনা বলেন, ‘পাথরভর্তি ১০ চাকার ট্রাক চলায় সড়কের এ সর্বনাশ হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে সড়কের ওই অংশ দেবে আছে। অথচ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সড়ক বিভাগ। দিন দিন দেবে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ফরিদপুর সদরের বৈঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক সুমন ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি চালিয়ে ফরিদপুর শহর থেকে বাড়ি আসতে কোনো সমস্যা হয় না, বিপদে পড়ি শহরে যাওয়ার পথে। সড়কের যে অবস্থা তাতে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বড় বিপদের মুখে আছি। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় যানবাহনের কারণে প্রায়ই পথচারীদের পাশের খাদে পড়ে যেতে হয়।’

কোমরপুর বাসস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানদার রব্বানী বেগম (৪১) বলেন, বৃষ্টি হলে মানুষের সমস্যার শেষ থাকে না। গাড়ি চলাচলের সময় খাদে জমে থাকা পানি ছিটকে পড়ে পথচারীদের ওপর। এতে কাদাপানিতে ভিজে যায় অনেকে।

বাহিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন (৫৮) বলেন, সড়কের ওই অংশে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ আহত হচ্ছে, ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত প্রতিকার দরকার।

অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, মহাসড়কের ওই এক কিলোমিটার অংশের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কে সংস্কার কাজ একবার হলে তিন বছরের মধ্যে আর করা যায় না। ওই অংশে সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয়েছে আড়াই বছর আগে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও আমরা সংস্কার কাজ করতে পারছি না। সড়কের বাহিরদিয়া সেতু থেকে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প সড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে সড়কের ওই অংশ কেটে সমান করে তার ওপরে একটি প্রলেপ দেওয়া হবে।’

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close