ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল শুরু

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে আট মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ উল আহসান বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন পর বিমান চলাচল শুরু হয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধের সময় দুটি দেশ যখন বিশেষ ব্যবস্থায় নিজেদের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপন করে, তাকে ‘এয়ার বাবল’ বলে। এই বিশেষ ব্যবস্থায় কারা যাওয়া-আসা করতে পারবেন, তা দেশ দুটির আলোচনার মধ্য দিয়ে ঠিক হয়। ভারত এখন ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সঙ্গে ‘এয়ার বাবল’ পরিচালনা করছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির অধীনে ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা, চট্টগ্রাম-চেন্নাই-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে চেন্নাই ও কলকাতা রুটের ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা থেকে কলকাতায় ২৩ জন এবং চেন্নাইয়ে ৩২ জন যাত্রী যান। আবার কলকাতা ও চেন্নাই থেকে দুই ফ্লাইটে ৬৮ জন যাত্রী ঢাকায় ফিরেছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, সোমবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন তাদের ফ্লাইট ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলকাতায় অবতরণ করবে। কলকাতা থেকে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ছেড়ে আসবে এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অবতরণ করবে। এছাড়া প্রতি সোমবার, বুধবার, শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ে অবতরণ করবে ফ্লাইট। একই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে পৌঁছাবে।

প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে চেন্নাই ও চেন্নাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায়ও ফ্লাইট চালাবে ইউএস-বাংলা।

উল্লেখিত দিনে ঢাকা থেকে সকাল ৯টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং চেন্নাই থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসবে এবং চট্টগ্রামে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ও ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পৌঁছাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে চলতি মাসেই নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবর থেকে তারা ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা রুটে প্রথম ফ্লাইট চালু করবে। এরপর ১ নভেম্বর ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ও ১৫ নভেম্বর ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন জানান, বিমান কলকাতা, দিল্লি ও চেন্নাই রুটে সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট চলবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক এ কে এম মাহফুজুল আলম জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে কলকাতায় একটি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ভাবছে তারা।

গত সপ্তাহের শুরুতে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ শুরু হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর থেকে ‘এয়ার বাবল’ ব্যবস্থাপনায় আকাশপথে এই যোগাযোগ পুনরায় চালু হবে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই প্রান্ত থেকে সপ্তাহে মোট ৫৬টি ফ্লাইট চলবে।

আর করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিমানের যাত্রীদের বিশেষ কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান জানান, ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যগত এবং পদ্ধতিগত বেশকিছু বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতে বিমান ভ্রমণ করতে হলে যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টা আগে সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে পিসিআর টেস্ট করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান জানান, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট জায়গায় স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মাস্ক বিতরণ করছে, যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাত্রীদের চলাচল বা অবস্থানের জায়গায় সারা দিনে বেশ কয়েকবার জীবাণুনাশক দেওয়া হচ্ছে।’

পাশাপাশি যেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোভিড পরীক্ষা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ প্রয়োজন হয়, সেসব সনদও যাচাই করে দেখেন বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্লাইটগুলো সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে ভারতের নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে যাবে এবং কোনো ধরনের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হবে না বলে নিশ্চিত করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান।

 

 

"