ব্রেকিং নিউজ

টেকনাফে হবে পর্যটনকেন্দ্র শিগগিরই শুরু হচ্ছে কাজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টেকনাফের বিপুল সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় এসেছে। শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ। নতুন সাজে সাজবে টেকনাফ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে, বাংলাদেশের দক্ষিণ দ্বার নামে পরিচিত পর্যটন উপশহর টেকনাফ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে। হাজার হাজার শিক্ষিত মানুষের চাকরি মিলবে। টেকনাফ হয়ে উঠবে, বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সুন্দর পর্যটন স্থান। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু পর্যটক টেকনাফে ভ্রমণে আসবে এখানে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের অন্যতম পর্যটন রাজধানী নামে পরিচিত কক্সবাজার জেলাকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন রাজধানী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে মহেষখালী উপজেলা মাতারবাড়ী, সোনাদিয়া, উখিয়া ও সর্বশেষ টেকনাফের পর্যটন খাতকে চিহ্নিত করে মেগা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসেছেন। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের খুরের মুখ ও হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া জালিয়ার দ্বীপকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। এর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা চলতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ প্রদান করেছেন। চলতি অর্থবছরে এর অবকাঠামো গত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দমদমিয়া ১ হাজার ৬০০ একর, খুরেরমুখ ১ হাজার ৪৫ একর জমিতে প্রকল্প দুটি প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানা, বিশ্বমানের হোটেল, মোটেল পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র, হেলিপ্যাড, আধুনিকমানের পর্যটন সেতু কেবল কার যাতায়াত সড়ক, স্পিডবোটসহ নানা ধরনের পর্যটক সুবিধা ও ভ্রমণ। এছাড়া সেন্টমার্টিনে গড়ে তোলা হবে আধুনিকমানের হোটেল-মোটেল, পর্যটকদের যাতায়াতের জাহাজ ও সামুদ্রিক, প্রাকৃতিক জাদুঘর। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সেন্টমার্টিন ছাড়াও কক্সবাজার জেলার সদর থেকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ১০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সড়ক বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত নামে পরিচিত লাভ করেছে। এ সড়ক দিয়ে যাতাযাতের সময়, সমুদ্রের নীল সাগরের ঢেউ, রাশি রাশি জলরাশি, প্রবাল পাথর, স্বর্ণখচিত সৈকতের বালুকনা, লাল কাঁকড়ার ঝাঁক ইত্যাদি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আরো রয়েছে উখিয়া উপজেলার ঘুমধুম হয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সীমান্ত সড়ক (বর্তমানে নির্মাণাধীন) এ সড়ক নির্মিত হলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও নাফ নদীর রাশি রাশি নীল পানির ঢেউ উপভোগ করা অতি সহজ হবে। টেকনাফে পর্যটকদের রয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমাপাড়া, কুদুম গুহা, রয়েছে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া বনবিভাগের ন্যাচার পার্ক, বাহারছড়া, ইউনিয়নের শীলখালি বন রেঞ্জের আওতাধীন, জাহাজ পুড়াই গর্জন বাগান। সেখানে রয়েছে বিশাল আকৃতির প্রাচীনতম গর্জন গাছ, যে গাছ প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে আকাশকে উঁকি মারে। টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ায় নাফ নদীতে নির্মিত হয়েছে আরো একটি আকর্ষণীয় ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যটক ও বাংলাদেশ মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি। দেশি বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য যেমনি রয়েছে অপূর্ব সুযোগ, তেমনি রয়েছে থাকারও খাবারের আধুনিকমানের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোর্রা। এর পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সৈকত পুলিশের পাশাপাশি, থানার পুলিশসহ বিজিবি কোস্টগার্ড র‌্যাব সদস্যরা আছেন। এক কথায় বলতে গেলে টেকনাফের মনোমুগ্ধ পর্যটক স্পট, হাতছানি দিয়ে ডাকছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তারা উন্নতমানের হোটেল-মোটেল শিশুপার্ক, ন্যাচার পার্ক ইত্যাদি গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণ পর্যটন উপশহর টেকনাফ দেশি-বিদেশি পর্যটক খাতে খ্যাতি অর্জন করবে এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব পর্যটক খাত থেকে অজর্ন করবে বলে এলাকার সচেতন মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

 

"