নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১ ঘণ্টা আগে

মানবিক নেতার উদ্যোগে মগবাজার বিটিসিএল কলোনিতে স্বস্তি

রাজধানীর মগবাজার বিটিসিএল কলোনির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগের অবসান ঘটতে শুরু করেছে। কলোনির বিভিন্ন ডাস্টবিনে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ময়লার স্তূপে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই এক দায়িত্বশীল নাগরিক নেতার ত্বরিত ও মানবিক হস্তক্ষেপে বদলে গেছে দৃশ্যপট। হাতিরঝিল থানা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের প্রচেষ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কলোনি প্রাঙ্গণ থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মগবাজার বিটিসিএল কলোনির ভেতরের ডাস্টবিন ও রাস্তা-সংলগ্ন স্থানগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। গৃহস্থালি বর্জ্য, পচা শাকসবজি এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো অসহ্য গন্ধ কলোনির বাতাসকে ভারী করে তুলেছিল। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের জন্য এই পরিবেশে বসবাস করা এবং দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যার ফলে কলোনীবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।

কলোনীবাসীর এই চরম মানবিক সংকট ও কষ্ট দেখে স্থির থাকতে পারেননি সমাজসেবক জিল্লুর রহমান। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই নয় বরং একজন সচেতন ও সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কলোনির বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত ময়লা অপসারণের জন্য জোরালো তাগিদ দেন।

কলোনির একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে মুখ চেপে যাতায়াত করতাম। দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছিল না। অনেকেই বিষয়টি দেখেও এড়িয়ে গেছেন, কিন্তু জিল্লুর রহমান ভাই আমাদের কষ্ট অনুভব করেছেন। তিনি সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে যেভাবে ময়লা সরালেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। এটি তাঁর গভীর মানবিকতাবোধের পরিচয় দেয়।’

অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের এই নিরলস তদবির ও ফলোআপের সুফল মিলতে দেরি হয়নি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকেই কলোনির প্রধান ডাস্টবিনগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। ময়লা বহনের বড় ট্রাক ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে কর্মীরা পুরো এলাকা পরিষ্কার করছেন। জমে থাকা বর্জ্য লরিতে তুলে নেওয়ার পর ওই স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে, যাতে পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক ও রোগমুক্ত হয়।

দীর্ঘদিন পর কলোনি প্রাঙ্গণ পরিষ্কার হতে দেখে বাসিন্দাদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির আলো। বাতাসে ছড়ানো সেই তীব্র দুর্গন্ধ কেটে গিয়ে ফিরে আসছে স্বাভাবিক পরিবেশ। এই মানবিক কাজের জন্য কলোনীবাসীর পক্ষ থেকে জিল্লুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে। কলোনির সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের নেতাদের এমন মানবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের এই ত্বরিত পদক্ষেপ কেবল মগবাজার বিটিসিএল কলোনিকেই দুর্গন্ধমুক্ত করেনি বরং সমাজ ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়