ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
ধামরাইয়ে সেতুর কাজে ধীরগতি
এক ব্রিজের অপেক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীসহ কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ

একটি সেতু বা একটি সড়ক শুধু যোগাযোগের উন্নতিই ঘটায় না, সেই আঞ্চলের অর্থসামাজিক ও মানুষের বড় পরিবর্তন ঘটায়। ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ছোট কালামপুর বংশী নদীর উপর নির্মিত এমন একটি সেতু যা দুই পারের কয়েকটি গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগের মাধ্য ছিল সেতুটি। কিন্তু নদীর উপর যে সেতুটি ছিল সেটি পাশে কম হওয়ায় এবং নদীর তল দেশ নিচু হওয়ার কারণে সেটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মানের ট্রেন্ডার হয়। সেই সেতুর কাজ শুরু হলেও ধীর গতিতে চলছে তার কাজ। এখন নতুন সেতু না হওয়ায় নদীর দুই পারের মানুষের নিত্যভোগান্তিতে পড়েছে। সেতু নির্মান হওয়ার প্রত্যাশায় কয় বছর অপেক্ষা করতে হবে এমন প্রশ্নও তাদের।
আগের সেতুটি সরু হওয়ায় ২০২২সালের ২৩মে সেতুটি ভেঙে নতুন করে সেতু নির্মানের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের ঢাকা-২০ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজির আহমদ। উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামারজান আনোয়ার জেবি। তাদের সেতুর কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২৩সালের ২৩জুন। কিন্তু তারা পুর্বের সেতুটি ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যান।
পরবর্তীতে ২০২৪সালে ৬নভেম্বর রিটেন্ডার করে ৬কোটি ৬৪লাখ ১৬হাজার ৪৬৮টাকা ব্যায়ে সেতুটির নতুন চুক্তিতে কাজ পায় মেসার্স উপকুল করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তাদের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের আগষ্ট মাসে। কিন্তু দুই বছর পার হলেও মাত্র অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি। কবে নাগাদ শেষ হবে সেতুর কাজ স্ েউত্তর মিলছে না তাদের কাছে।
ধীরগতিতে কাজ করার ফলে সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা মালামাল যেমন রড, পাথর এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে কাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। এতে দুই পারের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পারের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় এরশাদ নামে এক ব্যাক্তি বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা বানিজ্যে ভাটা পড়ে গেছে। তা ছাড়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিশাল বিপাকে। তাদের ৫কিলো রাস্তা ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে দ্রুত যাওয়ার কোন রাস্তা নেই এই সেতু ছাড়া। তাই আমাদের দাবি দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করে দুই পারের হাজার হাজার মানুষের দুঃখ লাগব করার।
কলেজ ছাত্র মোঃ এনামুল হক ইমন বলেন, এই সেতুটির কারণে আমাদের প্রায় ৫কিলো ঘুরে কলেজে যেতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাচা রাস্তা দিয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় জামা-কাপড়ে কাদা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। তাই দ্রুত সেতুটি হলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে।
ভ্যান চালক কাদের মিয়া বলেন, এই সেতুটি আর কত দিনে হবে। মালামাল নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাচা রাস্তায় ভ্যান অনেক সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে হয়। ৫কিলো ঘুরে যাতায়েত করতে হয়। আমরা চাই ব্রিজটি তাড়াতাড়ি হলে আমাদের ভাল হয়।
এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলার প্রকৌশলী (এলজিইডি) মিশুক কুমার দত্ত বলেন, প্রকৃতি ও বসশিক দুর্যোগের কারণে কাজে কিছুটা দেরি হলেও আমরা সেগুলো ওভারকাম করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ব্রিজটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।









































