হাসান ইমন

  ০৪ মে, ২০২১

মার্কেটে জনজট সড়কে যানজট

ঈদের বাকি এখনো আট দিন। এরই মধ্যে বাড়ছে ঈদের কেনাকাটা। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ আর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভীতি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় শপিং মল, বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোয় ক্রেতাদের ভিড়। সর্বত্রই যেন উৎসবের আমেজ। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্বের কোথাও বালাই নেই। যেন সবাই ভুলতে বসেছে করোনার কথা।

এদিকে ঈদের কেনাকাটার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কগুলোয়ও। বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ। এতে বিভিন্ন এলাকায় মূল সড়কে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

গতকাল সোমবার নিউমার্কেট, মৌচাক মার্কেট, ফরচুন শপিং মল, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মার্কেটগুলোর প্রবেশ মুখে মানুষের ভিড়। ভেতরে ক্রেতাদের ভিড়। মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়লেও শারীরিক দূরত্ব নেই। দোকানগুলোয় নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার। একই পণ্য একাধিক ক্রেতার সংস্পর্শে আসছে। এতে কেউ করোনার জীবাণু বহন করলে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য ক্রেতাদের মধ্যে। এ ছাড়া ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই কেনাকাটা করতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। আবার অনেকেই ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। দেখা যায়, পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিকের দোকানে ভিড় দেখা গেছে। পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে ঘুরছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। অনেকেই পছন্দের জিনিস কিনতে এসে স্বাস্থ্যবিধি ভুলতে বসেছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের কেনাকাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আশপাশের এলাকার ক্রেতারা আপাতত ভিড় করছেন। গণপরিবহন চালু হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের চাপ আরো বাড়বে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এখনো সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। অনেকেই দেখতে আসছেন। একজন ক্রেতার সঙ্গে আসছেন একাধিক ব্যক্তি। এতে ভিড় বেশি দেখা যায়।

ফরচুন শপিং মলে জাহিদ নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদ কেন্দ্র করে নতুন পোশাক সাজানো হয়েছে। আমার দোকানে নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি। স্কার্ফ, হিজাব, সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। দিন দিন বিক্রি বাড়ছে।’

আরেক পোশাক বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘বেচাবিক্রি ভালো। কাস্টমারের চাপ বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। আমরা যতটুকু সম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করছি। আশা করি ঈদের ২-৩ দিন আগে আরো বেশি বিক্রি হবে।’

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ দুদফা শেষে তৃতীয় দফায় চলছে। তৃতীয় দফার বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। তবে নতুন করে বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৬ মে করা হয়েছে। তবে তৃতীয় দফার বিধিনিষেধের শুরুর দিকে জনসমাগম ও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের যে সরব ভূমিকা ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা নিষ্প্রভ হয়ে গেছে।

তৃতীয় দফায় লকডাউন শুরু থেকেই রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দোকানপাট ও শপিং মল খোলার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। চেকপোস্টগুলোয় শুরুর দিকে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো থাকলেও এখন তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বিধিনিষেধের শুরুতে যে কড়াকড়ি ছিল তা এখন আলোচনা থেকে বহু দূরে। এখন ‘মুভমেন্ট পাস’ চেক করতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কায়সার মাহমুদ। তিনি প্রতিদিন বনশ্রী থেকে গুলশানে যাতায়াত করেন। তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এ কেমন লকডাউন? আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা শেষ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বনশ্রী থেকে গুলশানে যাতায়াত করতে রিকশায় লাগে প্রায় আড়াই শ টাকা। এভাবে টানা কত দিন দেওয়া সম্ভব্য অন্ততপক্ষে বাস চললে আমাদের খরচটা কমত।’

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সড়কে যানজট,মার্কেট,বিপণিবিতান,বিধিনিষেধ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close