সম্পাদকীয়

  ০১ অক্টোবর, ২০১৯

কিডনি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি

মনুষ্যত্ববোধের কারণেই আমরা মানুষ। সৃষ্টি জগতের মধ্যে মানুষের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। কারণ, তার বিবেকই তাকে ভালোমন্দ বুঝতে সাহায্য করে। শুধু মানবীয় গুণাবলি ছাড়া দৈহিক কাঠামোর কারণে মানুষ পরিচয় পেলেও মূলত আমরা কতটা মানুষ; সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা, আমরা মানুষ পরিচয়ে যখন একের পর এক অমানবিক কাজে জড়িয়ে পড়ি; তখন কি আর নিজেকে মানুষ বলতে পারি? কিন্তু সেই পরিচয়েই এমন কোনো হীনকর্ম নেই, যা মানুষ করছে না। আর তাহলো, মানুষের কিডনি নিয়ে অমানুষের ব্যবসা! বছর-পাঁচেক আগে এমন খবরে শিহরে উঠেছিল বিবেকবান মানুষ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সবিস্তারে সেসব খবর এসেছে। সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপে তা রোধ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে ওইসব নরঘাতকের কালো হাত এখনো সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা থাবা বিস্তারে চেষ্টা করে।

গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘মানুষের কিডনি নিয়ে অমানুষের ব্যবসা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় কিডনি পাচারকারী চক্রের নীল থাবা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ফেলে মানবদেহের এই জরুরি প্রত্যঙ্গটি কেড়ে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারী চক্র। কিন্ত্র এই চক্রটি ওই অঞ্চলে অনেক আগেই গড়ে উঠেছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সেসময় কিডনি বিক্রি চক্রের রাঘববোয়ালসহ অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেই সীমান্তবর্তী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ফের কিডনি পাচারকারী চক্রটি পুরোনো থাবা বিস্তারের চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কিডনি পাচার চক্রেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে অসহায় মানুষ তাদের প্রতারণার শিকার হবেন।

এ কথা অনস্বীকার্য, মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য উপার্জন করতে হয়, তাই বলে অপর ভাইয়ের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা শরীরের এক বা একাধিক অংশ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে হবে? সামান্য কিছু টাকার জন্য এত নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য কাজ মানুষ করবে—এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।

বিশ্বের ১৫৭টি দেশে প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সাধারণের মাঝে দিবসটি পালনের যথার্থতা ফুটে ওঠে না। ফলে কিডনি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন মারা যাচ্ছে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে। অপর এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে দুই কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া জরুরি। সর্বোপরি, সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। কিডনি ক্রয়ের প্রতারকচক্রের হাত থেকে বেঁচে থাকার জন্য জনসচতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি এ ঘটনা রোধে জনপ্রতিনিধিদের জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সম্পাদকীয়,বিশ্ব কিডনি দিবস,কিডনি পাচার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়