অতি প্রচারের প্রয়োজন আছে কি?

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৩৪ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৪৬

আবরার হুসাইন স্বজন

আমাদের দেশে বর্তমানে সব থেকে আলোচিত বিষয় হলো ধর্ষণ। যা খুবই জঘন্য; অমানবিক ও পশুসুলভ আচরণ। আমি তীব্রভাবে এই অপকর্মের প্রতিবাদ জানাই। আদিকাল থেকেই এই অপরাধের সাথে মানব সমাজ জড়িয়ে আছে। মানুষের কু-প্রবৃত্তি; বিকৃত বুদ্ধি আর অশালীনতাই এই মারাত্মক অন্যায়ের মূল শেকড়। যাকে উপড়ে ফেলা অনেকটাই কঠিন। তবে অসম্ভব নয়।

ছোট বেলা থেকে পড়ে আসছি, 'পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর।' কিন্তু আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করলে আর কেউ এই অপরাধীদের কাতারে দাঁড়াবে না তা জোড় দিয়েই বলা যায়। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক বিধানও অনুসরণ করা উচিত।

সংবাদ মাধ্যম হাতের তালুতে এসে জায়গা করে নেওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে যে কোনো খবর ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এটা মিডিয়ার ভালো দিক। আর এ জন্য মিডিয়া কর্মীরা প্রশংসা পাবার যোগ্য।

কিন্তু মিডিয়ার কিছু ভয়ংকর দিকও আছে। এটা বোঝানোর জন্য আমি দুইটা উদাহরণ দিচ্ছি   --

১. আমার এক চাচাতো ভাই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার মধ্যে কৌতুহল জিনিসটা একটু বেশি বলে আমার ধারণা। মাঝে মাঝেই সে আমাকে অনেক চিন্তাশীল প্রশ্ন করে যেগুলো অনেক বড়রাও ভাবে না। অথবা ভাবার মত সময়ই তাদের নেই!  সেদিন সে প্রশ্ন করল,  ‘ভাই, 'প্রেগনেন্ট ' কী? ’  আমিতো প্রশ্ন শুনে অবাক।  ত্রিশ সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললাম, ‘যে মেয়েদের বাবু হয় তাদেরকে প্রেগনেন্ট বলে। ’ এই শব্দ সে কোথায় পেল? মিডিয়া, টিভি, মোবাইল, খবর, নাটক, ছবি ইত্যাদি হতে পারে আমার প্রশ্নের উত্তর। ( আমার ভাইটাকে আমরা সামলাতে পারছি কি পারছি না, সে প্রশ্নে আমি যাবো না।)

২. সেদিন ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের একটা ছবি দেখলাম।  ছবিতে একটা ছয় কি সাত বছরের শিশুকে দেখা যাচ্ছে যার হাতে একটা প্লে-কার্ড যাতে লেখা আছে,  ‘Am I next ?’

আমার ধরণা শিশুটি ইংরেজি ভাষায় লেখা এই বাক্যটার অর্থ বোঝে না। তাই সে নিজেতো এ কথাটা লিখতে পারেনি। সে হয়তো এটাও জানে না কেন সে প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ! আামার ভয় হয়, এই শিশুটি যদি প্রশ্ন করে, ‘ধর্ষণ কী?’ আমরা কি জবাব দেব !

আমরা এখনও বিশ্বাস করি,  'সংবাদপত্র হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার। ' তাই যারা পড়তে জানে তাদেরকে আমরা সংবাদপত্র পড়তে বলি। বিশেষ করে পড়ার অভ্যাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের আমরা সংবাদপত্র পড়তে বলি। কিন্তু পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা দেখতে পাই নেতিবাচক খবর। সকালটা পত্রিকা ভরা নেতিবাচক খবর পড়ে শুরু করলে আমাদের মানসিক অবস্থাটা কি দাঁড়ায় তা আমার থেকে ভালো বলতে পারবেন যারা মনোবিজ্ঞান জানেন। আর পড়তে শেখার সময় থেকে শুরু করে নিয়মিতভাবে নেতিবাচক খবর পড়তে থাকলে মানসিকতার কি পরিমাণ ক্ষতি হয় তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

আমি বলছি না, শুধুমাত্র এই একটা কারণে সমাজে অপরাধ হচ্ছে। অপরাধের আরও হাজারটা কারণ আছে। তাই বলে হাজার হাজার বার যদি আমরা এই অপরাধগুলোর খবর নিয়ে নাড়াচাড়া করি; ভালো কাজগুলো কখন করব !

সব শেষে বলব, অপরাধীর শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু অপরাধীকে আইকন পার্সনের মতো প্রচারণার মালা পড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তা করলে লাভের থেকে লোকসানের ভাগটাই বেশি হবে বলে আমার ধারণা।

লেখক: শিক্ষার্থী,  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়