সবুজ হোসেন, নওগাঁ

  ২৫ নভেম্বর, ২০২১

ঢাকায় ভ্যাপসা গরম, উত্তরে শৈত্যপ্রবাহ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ষড়ঋতুর পালাবদলে রাজধানীতে এখন শীতের তীব্রতা বাড়ার কথা থাকলেও এর লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও রাতের বেলায় গরমে শরীর ঘেমে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চল অনেকটাই এর ব্যতিক্রম। সেখানে কিছু কিছু জায়গায় এরই মধ্যে বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। ক্রমেই বাড়ছে শীত।

জানা যায়, দেশের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় গত ৪দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কনকনে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের দাপটে শীতে জুবুথুবু পুরো জেলা। এ জেলার ১১ উপজেলার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন বেকায়দায়। জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। নওগাঁর বদলগাছীর স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলায় আজকে সর্বনিম্ন ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা নওগাঁর সাধারণ মানুষ শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

অন্যদিকে ৪ দিন ধরে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেলারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হতে দেখা গেছে শিশু ও বয়স্কদের। যার কারনে দেখা দিয়েছে বেড সংকট। শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা কনকনে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য অনেকেই বাড়ির আঙিনা ও ফুটপাতসহ চায়ের দোকানের চুলায় বসে আগুন পোহাচ্ছে ন।

নওগাঁর সদর উপজেলার হাটচগৌড়ি গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, এতই শীত আর কুয়াশা শুরু হছে । যার কারনে মাঠোত কাম করবার লাগলে খুব কষ্ট হচ্ছে হামাকেরে। এ্যানাকরা কাম করিচ্ছি আবার এ্যানাকরা আগুন ধরা হাত-পাও পোহাচ্ছি। কৃষক মানুষ হামরা কাম তো করাই লাগবে।

সদর উপজেলার চকআতিতা গ্রামের কৃষ রেজাউল ইসলাম বলেন, গত ৪দিন থ্যাকা ব্যাপক কুয়াশা ও শীত পড়িছে। জমিত কাম-কাজ করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। শরীর পুরাডায় ঠান্ডা হইয়া যাচ্ছে। এ্যানা করা কাম করিচ্ছি আবার এ্যানা করা অগুনোত আঁচ পোহাচ্ছি।

শহরের তাজের মোড়ের রিকশাচালক শাহজাহান আলী বলেন, ভোর থাক্যা রিকশা চালাই। আজক্যা মনে হচ্ছে বেশি ঠ্যান্ডা পরিছে। রিকশা চালাতে হাত-পাও ঠান্ডা হইয়া যাচ্ছে। শীত আসলেই হামাকেরে কষ্ট বাড়া যায়। কি আর করার আছে পেটের দায়ে তো কাম করাই লাগবে।

শহরের মুক্তির মোড় এলাকার ভ্যানচালক কসিম উদ্দিন বলেন, সকাল আর রাতোত বেশি ঠান্ডা লাগিচ্ছে। ঠান্ডার কারণে মাঝে মাঝে মনে হয় হাত অবশ হইয়া যাবে। আজক্যা তো সূর্যের দেখাই নাই। অনেক কষ্ট হচ্ছে ভ্যান চালাতে হামাকেরে।

নওগাঁর বদলগাছীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল (বুধবার) ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস । তবে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ঢাকা,ভ্যাপসা গরম,আবহাওয়া,শৈত্যপ্রবাহ,উত্তরাঞ্চল,শীত
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close