মানিলন্ডারিং মামলায় ফরিদপুরের বিতর্কিত ৩ নেতা গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪২ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৮:০২

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলায় দুই ভাই রুবেল ও বরকতের পর এবার গ্রেফতার হলেন আরও তিন বিতর্কিত নেতা লেভী, বিল্লাল ও ফারহান। 

শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী (৬১) ও জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনকে (৫৪) ৩১ জুলাই দুপুরে এবং শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহানকে (৪০) ১ আগষ্ট মাঝরাতে গ্রেফতা করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার পুলিশ। 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ২৬ জুন দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ অর্থ, সম্পদ আয় ও পাচারের অভিযোগ এনে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি করেন। মামলার বাদী সিআইডির পরিদর্শক এসএম মিরাজ আল মাহমুদ। সিআইডির চাহিদা অনুযায়ী ফরিদপুরের পুলিশ গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই ৩ নেতাকে গ্রেফতা করে। 

এ মানি লন্ডারিং মামলায় ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিস্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি করা হয়।

সিআইডি এ মামলায় ওই দুই ভায়ের ১০দিনের রিমান্ড চায়। গত ১৩ জুলাই ভার্চুয়াল কোটের মাধ্যমে এ রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ফরিদপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় জেল গেটে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে এ শুনানিতে অংশ নেন রুবেল ও বরকত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৯ জুলাই  সিআইডি দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে তাদের জিম্মায় নেয়। দুইদিন রিমান্ড শেষে সিআইডি গত ২১ জুলাই পুণরায় ১০দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৪ জুলাই মোট পাঁচ দিন রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রুবেল ও ররকতকে মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে রাতে শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে ফরিদপুর জেলা আ.লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে  দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। গত ৭ জুন রাতে ওই মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ রুবেল, বরকতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতা করে। 

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, বিল্লাল হোসেন ও আসিবুর রাহমান ফারহানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডির মানি লন্ডারিং মামলার আসামি রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাদের সম্পৃক্ততার প্রেক্ষিতে তাদের ফরিদপুর শহরের নিজ নিজ বাড়ি থেকে  গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, লেভী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও গত দশ বছরে তার নৈতিক স্খলন হয়েছে। দলের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তিনি অনৈতিকভাবে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিল্লাল হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি খন্দকার মোশাররফের ভাই খন্দকার বাবরের কাঁধে হাত রেখে জেলা শ্রমিক লীগে অনুপ্রবেশ করে হাইব্রীড নেতা হয় ‘দাঁতাল বিল্লাল’। সরকারি সম্পদ লুটপাটে বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলো বিল্লাল। 

গ্রেফতা হওয়া এই তিন বিতর্কিত নেতার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, এরা সকলেই রাজনৈতিক দুর্বিত্ত। এরা গ্রেফতা হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদেরও রেহাই নেই, এটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।

পিডিএসও/এসএম শামীম