মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ১৭ জুন, ২০২৬

মোহনগঞ্জ হাওরে স্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চরহাইজদা হাওরে রাতের আঁধারে স্থায়ী ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গত রবিবার গভীর রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বাঁধটির একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। বিষয়টি সোমবার স্থানীয়দের নজরে এলে তারা নিজেরাই মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেন। যে স্থানে বাঁধ কাটা হয়েছে, তার বিপরীত পাশে একটি গভীর কুড় রয়েছে। ওই কুড়ে মাছ প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যেই বাঁধটি কাটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাগলাজুর গ্রামের রাসেল মিয়া জানান, রাতের আঁধারে বাঁধ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। পরদিন বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কাউকে না পেয়ে তারা নিজেরাই মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

একই এলাকার বুলবুল মিয়া বলেছেন, ‘মাছের লোভে দুর্বৃত্তরা স্থায়ী বাঁধের ওপরের ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে ফেলেছে। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাওরের ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

গাগলাজুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আশরাফুল চৌধুরী বলেছেন, ‘কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে। এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, স্থায়ী মেরামত করা হয়েছে। রাতের আঁধারে যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলার প্রস্তুতি চলছে। আজকে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনে কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে বাঁধ মেরামত করে হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেছেন। বাঁধ কাটার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতেও প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় ইউএনওকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়