ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
ডিমলায় ভুট্টা ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা ডাকাতি, শঙ্কিত স্থানীয়রা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রংপুর–ডালিয়া মহাসড়কের সোনাখুলী স্লুইস গেট এলাকায় আবারও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
চারটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত ভুট্টা ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমানকে (৪৫) পথরোধ করে মারধর ও নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সোনাখুলী স্লুইস গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে জলঢাকা এলাকায় যান। কাজ শেষে রাতে নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রংপুর–ডালিয়া মহাসড়কের সোনাখুলী স্লুইস গেট এলাকায় পৌঁছালে চারটি মোটরসাইকেলে থাকা প্রায় আটজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলার পর আহত ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন।
আহতের ছেলে সজিব (২৫) জানান, রাত প্রায় ৮টার দিকে ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাতিজা সাফিন ইসলাম (২৬) বলেন, আমার চাচা দীর্ঘদিন ধরে ভুট্টার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাড়ি ফেরার সময় পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। চারটি মোটরসাইকেলে আটজন ডাকাত ছিল।
ঘটনার বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, আহত ব্যবসায়ীকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় এর আগেও একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে একই এলাকায় শতাধিক ট্রাক ও মাইক্রোবাস থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৩৫টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ডিমলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পিডিএস/এমএইউ









































