গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
চলনবিলে একটি ব্রিজই দূর করতে পারে কৃষকদের দুর্ভোগ

একটি ব্রিজই দূর করতে পারে কৃষকদের দুর্ভোগ। চলনবিলের তাড়াশের কুন্দইলে ব্রিজ না থাকায় এই এলাকার হাজার হাজার বিঘা জমির ধান সময়মত কাটতে না পারায় আগাম বন্যা বা ঢলের পানিতে ঢুবে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা যায়, কুন্দইল উত্তর মাঠের মাকরশন লালুয়ামাঝি সড়কের মোস্তফার পুকুরের পশ্চিম পার খালের উপর ব্রিজ না থাকায় এই এলাকার অন্তঃত ৬ হাজার বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চলনবিলের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় আগেই ঢলের পানি ঢুকে নাবি জাতের ধান পানিতে ডুবে যায়। আর এই সময় পানিতে নেমে ধান কাটতে কৃষকদের খরচ হয় প্রতি বিঘা জমিতে ১০/১২ হাজার টাকা।
কৃষকরা জানান, এই খালের উপর একটি ব্রিজ করা হতো তা হলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, ভ্যানসহ ধান পরিবহনের জন্য গাড়ি পৌঁছতে পারতো। ফলে দ্রুত ধান কেটে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারতো।
এই এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আশরাফুল হক জানান, এই সব জমিদে আমার সরিষা ও ধান চাষ করি। সরিষা তুলে ধান চাষ করতে একটু দেরি হয়। যে কারণে আমাদের ধান উঠতে একটু বেশি সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে এই জমিগুলোতে ঢলের পানি চলে আসে। যে সময় আমরা তাড়াহুড়ো করে ধান কাটতে পারি না। তবে যদি খালের উপর ব্রিজ হতো তা হলে হারবেষ্টার মেশিন নিয়ে আমরা দ্রুত ধান কেটে মাড়াই করতে পারবো। যার ফলে আমাদের ধান পানিতে ডুববে না। কিন্তু ব্রিজ না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।
এবিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, ব্রিজ না থাকায় এই এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ দিন হলো। ইতিমধ্যেই বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান হবে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা এ বিষয়ে বলেন ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করেছি। খাল ও নালাগুলো সংস্কার করা হলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যাবে। এছাড়া ব্রিজের সমস্যাটি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।
পিডিএস/এমএইউ









































