গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
পলিনেট হাউসে বিদেশি ফুল চাষ করে ৪ লাখ টাকা আয়

সিরাজগঞ্জে পলিনেটে জারবেরার ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন উল্লাপাড়ার চর ঘাটিনা গ্রামের ফজলুল হক। চারা রোপণের ৩ মাসের মাথায় তার বাগানে জারবেরা ফুলে ভরে গেছে।
তিনি ১৩ শতক জমিতে ৩ বছরে প্রায় ২ লাখ ফুল উৎপাদনের আশা করছেন। সব খরচ বাদে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনা গ্রামের ফজলুল হক ২০২৫ সালে থেকে পলিনেটে নানা ধরনের ফুলের চাষ শুরু করেন।
ফজলুল হক জানান, ইউটিউব দেখে ২০২৫ সালের চাষ শুরু করেছেন। এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় দুই বিঘা জমিতে পলিনেট হাউস তৈরি করেন। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে ভারত থেকে সংগ্রহ করা চারা দিয়ে সেখানে ১৩ শতক জায়গায় শুধু জারবেরা ফুলের চাষ করেন। বাকী জমিতে সবজির চাষ করেছেন।
সম্প্রতি চর ঘাটিনা এলাকায় ফজলুল হকের কৃষি খামারে গিয়ে দেখা যায়, মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশাল এক এলাকায় আগাম সবজি চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খামারের পলিনেট হাউসের ভেতরে শোভা পাচ্ছে লাল, হলুদ, সাদাসহ নানা রঙের জারবেরা ফুল।
তিনি বলেন, এক বছর আগে পলিনেট হাউসের ভেতরে ১৩ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩ হাজার জারবেরার টিস্যু কালচার চারা রোপণ করে চাষ শুরু করা হয়েছে। এতে চারা বাবদ খরচ হয়েছে দেড় দুই লাখ টাকা। শুরুতে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও দুই মাসের মাথায় গাছগুলোয় ফুল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মাথায় সব গাছের ফুল এসে যায়। বর্তমানে খামারের ৩ হাজার জারবেরাগাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ফুল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি ফুল স্থানীয় বাজারে ৭-৮ টাকায় পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। সারা দেশের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও এই ফুলের বেশ চাহিদা রয়েছে।
বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে দিন দিন জারবেরা ফুলের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে দিন দিন জারবেরা ফুলের চাহিদা বাড়ছে।
ভবিষ্যতে এই জারবেরা ফুলের খামার আরও বড় আকারে করার পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক বাধা ছিল। কিন্তু এখন সফলতা পেয়ে ভালো লাগছে। এ বছর শুধু জারবেরা ফুল বিক্রী হয়েছে ৪ লাখ টাকা। আগামী আরো ২ বছর এই ফুল বিক্রী করা যাবে যা থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা লাভের আশা করছি।
তিনি বলেন, ঈদ, পূজা, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পয়লা বৈশাখ, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চে এই ফুলের চাহিদা বেশি থাকে উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, ফুলের বাজার ভালো থাকলে প্রতিটি ফুল বিক্রি হয় ১৪/১৫ টাকায়।
জারবেরা ফুলের বাগান দেখতে এসে সুমাইয়া ইসলাম বলেন, জারবেরা ফুল চাষ দেখতে তিনি এখানে এসেছেন। নানা রঙের জারবেরা ফুল তার অনেক ভালো লাগে। তিনি নিজেও ছোট আকারে হলেও একটি জারবেরা বাগান করতে চান।
ফজলুল হক জানান, পানিসহনশীল না হওয়ায় জারবেরা ফুল চাষ করতে হলে পলিনেট হাউস অবশ্যই প্রয়োজন। গ্রিনহাউস হলে আরও ভালো হয়। এরপর বেলে-দোঁআশ মাটিতে লম্বা আকারে তৈরি করতে হয় বেড। একটি বেড থেকে অন্য আরেকটি বেড়ের দূরত্ব থাকে ২৪ ইঞ্চি। আর রোপণ করা একটি চারা থেকে অন্য আরেকটি চারার দূরত্ব থাকে ১৩ ইঞ্চি।
জারবেরা সারা বছরই ফোটে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চে বেশি ফুল ফোটে। বছরে একটি গাছ থেকে প্রায় ২০০টি ফুল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফুল ৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে টানা তিন বছর পর্যন্ত ফুল পাওয়া যায়।
উল্লাাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এখানে বেলে-দোআঁশ মাটিতে জারবেরা ফুল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ফজলুল হক সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, জারবেরা ফুলটি বহুবর্ষজীবী। বিদেশি ফুল হলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের প্রথম সারির ১০টি ফুলের মধ্যে জারবেরা অন্যতম। এ ছাড়া ফুলটি বেশি দিন ফুলদানিতে সতেজ থাকে। এই ফুল চাষ লাভজনক হলেও বিভিন্ন খাতে অত্যধিক খরচ হওয়ায় বাংলাদেশের চাষিরা চাষে আগ্রহ দেখান না। তবে এই জারবেরা ফুল চাষে কোনো চাষি আগ্রহ দেখালে তাঁকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে।









































