মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

  ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বন্ধে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা চলে গেছে মাদ্রাসায়

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীর অভাব দেখা দিয়েছে। করোনাকালে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী হারিয়েছেন কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনায় মাদ্রাসা খোলা থাকায় অভিভাবকরা তাদের শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় পাঠিয়েছেন। যার কারণে এখন কিন্ডারগার্টেনগুলো খুললেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত কিন্ডারগার্ডেনগুলোতে। 

উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন সূত্র মতে, করোনা পরিস্থিতির আগে উপজেলার দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫-১৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করতো। শিক্ষক কর্মচারি মিলে প্রায় দ্ইু হাজার মানুষ কর্মরত ছিল। এখানেই ছিল তাদের জীবন-জীবিকা। কিন্তু করোনার থাবায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা-ব্যবস্থা অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারিরা বেকার হয়েছেন। 

বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানান, কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত অনেকেই পেশা বদল করে বিভিন্ন পেশায় চলে গেছে। করোনায় কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও  ধার দেনা করে প্রতিষ্ঠান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। 

উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের কবি নজরুল কিন্ডারগার্টেন এর প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের চারটি শাখা ছিল। করোনার কারণে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাকি দুইটি শিক্ষার্থী যা ছিল এখন তার অর্ধেকও নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে আমি এখন প্রায় দুই লাখ টাকা লোকশান গুণছি।

উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক আলম হোসেন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল খোলার পর তিনভাগের দুই ভাগ শিক্ষার্থীই আর বিদ্যালয়ে আসেনি। কোন কোন শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনমজুরি করছে বলেও জেনেছি।

মির্জাপুর পৌরসভা এলাকার নূর আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন এর প্রধান নুরুল ইসলাম বলেন, করোনা আগে আমার প্রতিষ্ঠানে ৮০ জনের উপর শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল খোলার পর মাত্র ৫-৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি। কিস্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি সামনে কি হবে জানি না। 

বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বলে সামগ্রিকভাবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী না পাওয়ার কথাই জানা গেছে। এছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান প্রধানরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছেন। তবুও ধার দেনা করে সুদিনের আশায় প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্টরা।

মির্জাপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জ্ঞানজ্যোতি কিন্ডারগার্টেনের প্রধান মো. আবুল কাশেম খান জানান, সারাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খোলা থাকায় করোনাকালে আমরা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হারিয়েছি। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোন সহায়তাও পাইনি। ফলে মির্জাপুরে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রনাধীন নয়। তাই তাদের ব্যাপারে কোন মন্তব্য নেই। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও সন্তোষজনক।

পিডিএসও/এসএমএস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মির্জাপুর,টাঙ্গাইল
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close