মো. লিটন খান, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

  ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

কেরানীগঞ্জে অভিনব কৌশলে চলছে অবৈধ ইটভাটা

রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশ ঘিরে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ টি ইটভাটা। যার মধ্যে প্রায় ৫-৭ টি ইটভাটাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইদের।

বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ করা হলেও বন্ধ হয়নি ভাটাগুলোর কার্যক্রম। ইটভাটার কালো ধোয়ায় প্রতিদিনই নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কারা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য, হাজার হাজার বন্দী ও বন্দীদের দেখতে আশা দর্শনার্থীরা। ইদানিং প্রশাসনের নজর এড়াতে ভাটা চালাতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন ভাটা মালিকরা।

পরিবেশের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল চালাচ্ছে এসব ইটভাটা। এসকল ইটভাটায় দেদারসে পুড়ানো হচ্ছে, কাঠ ও টায়ার। ফলে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বায়ুমন্ডল। এছাড়াও ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমি। আগে এ সকল এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসল হলেও ইটভাটার প্রভাবে ফসলের উৎপাদন ও কমে গেছে।

কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বন্দী রয়েছে, স্টাফ রয়েছে প্রায় এক হাজার, স্টাফদের সাথে তাদের পরিবার ও রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন হাজতীদের দেখতে আসে হাজার হাজার লোক। ইটভাটার কালো ধোয়ায় বিপন্ন হচ্ছে জেল খানার পরিবেশ। ইটভাটার কারণে প্রতিদিন স্বাস্থ্য ঝুকিতে পরছে এরা সকলেই। গত দুই বছরে কারা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ সকল ইটভাটা বন্ধের জন্য ১২ বার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয় নি।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় আশে পাশেই রয়েছে, রাফিয়া ব্রিকস, জেপিএল ব্রিকস, নাজির ব্রিকস, জিকজাক ব্রিকস, ইমরান বিক্রস, বেপারী ব্রিকসসহ বেশ কিছু ইটভাটা। এগুলোর কোন কোনটিতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, আবার কোন কোনটিতে টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও  প্রশাসনের নজর এড়াতে ভাটা চালাতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে ভাটা মালিকরা। দূর থেকে যেন এসব ব্রিকস বন্ধ বোঝা যায়, তাই এখন তারা চিমনী দিয়ে ধোয়া বের না করে মটর চালিত ফ্যানের মাধ্যমে ধোয়া আশে পাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ইটভাটা গুলো দূর থেকে দেখে বন্ধ মনে হলেও মূলত সেগুলো চালুই থাকে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, কারাগারের আশে পাশের ইট ভাটাগুলোর মধ্যে তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান লাট মিয়া ও তার ভাইদেরই রয়েছে বেশ কয়েকটি ভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের উচ্ছেদ অভিযান এলে তারা মোটা অংকের টাকা দিয়ে কর্মকর্তাদের প্রতিবারই ম্যানেজ করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও লোক দেখানো উচ্ছেদ করে চলে যায়। তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন ও তাদের কিছু বলে না।

এছাড়া স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ও রয়েছে কয়েকটি ইটভাটা। একাধিকবার ভেঙে ফেলার পরেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে চলছে এসকল ভাটাগুলো।

তারা আরো জানায়, ইটভাটার ক্ষতিকর ধোয়াতে পুরো এলাকাবাসী স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকলেও ভাটা মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

ইটভাটা আইন ২০১৩-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত এলাকা, সরকারি স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গুরুত্বপূর্ন একটি স্থান হলেও এখানে এতোগুলো ইটভাটা বার বার চিঠি দেয়ার পরেও কেন সড়ানো হচ্ছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান লাট মিয়ার নাম্বারে একাধিক বার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুর ইসলাম বলেন কারাগারের আশে পাশের ইট ভাটাগুলোর কারণে আমাদের অনেক বেশিই ক্ষতি হচ্ছে, বার বার অধিদপ্তরকে চিঠি দিলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। তারা বলছে বন্ধ হয়ে যাবে, বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না।

এখানে গাছ পালা ফসল কিছুই হচ্ছে না। এ সকল ইটভাটার কারণে আমাদের বাচ্চাদের শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নানান সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু ইট ভাটাগুলো বন্ধ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান করছি। গত ১ বছরে ইটভাটার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জে যতগুলো অভিযান হয়েছে, এতো কম সময়ে এতো অভিযান হয়তো আগে কখোনোই হয়নি। আমাদের অভিযান চলমান  রয়েছে। এবার আমরা আরো কঠোর হবো।

পিডিএসও/এসএম শামীম

কেরানীগঞ্জ,অভিনব কৌশল,অবৈধ ইটভাটা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close