বুকে ছুরি নিয়ে ১২ ঘণ্টায় ৪ হাসপাতাল ঘুরলেন নারী

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫৬

অনলাইন ডেস্ক

মাঝ বয়সে সাবেক স্বামীর হামলার শিকার হয়েছেন ৫০ বছরের বেহেশত আরা । বুকে লম্বা ছুরি বসিয়ে দিয়েছেন সাবেক স্বামী। বুকে-পিঠে ছুরি নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন বেহেশত আরা।

সকাল ৯টা থেকে রাত রাত ৯টা। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হয় তাকে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে জেলা হাসপাতাল। জেলা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অবশেষে রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বুকে ও পিটে ছুরি নিয়ে অবিশ্বাস্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হলো কিশোরগঞ্জের এই নারীকে।

পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বেহেশত আরা ও তার ছোট বোন আনুফা আক্তার (৪৫)। বুধবার সকালে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা। বেহেশত আরা করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মৃত দীন ইসলামের ছেলে। হামলাকারী মো. জিল্লুর রহমান একই এলাকার কেরামত আলী ওরফে গতা মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, ১০ বছর আগে বেহেশত আরার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক বছর পর বেহেশত আরার সঙ্গে জিল্লুর রহমানের গোপনে বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের ঘর-সংসার হয়নি। কয়েক বছর আগে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হলে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। জমিজমা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকে মামলা ও বিরোধ চলছিল।

এ অবস্থায় গত মাসে জিল্লুর রহমানকে তালাক দেন বেহেশত আরা। এরপর স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার বেহেশত আরার ওপর হামলা চালান।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে মামলার কাজে একটি অটোরিকশাযোগে বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন বেহেশত আরা ও ছোট বোন আনুফা আক্তার। সকাল ৯টার দিকে নিয়ামতপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রিকশা থামিয়ে বেহেশত আরার ওপর হামলা চালান জিল্লুর রহমান। এ সময় ছোট বোন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করেন জিল্লুর। আনুফাকে আহত করার পর একই ছুরি বেহেশত আরার বুকে বসিয়ে দেন জিল্লুর রহমান। ছুরিটি বুকে ঢুকে পিট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় বেহেশত আরা ও আহত আনুফা বেগমকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুই বোনকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে নেয়া হলে ছোট বোনকে চিকিৎসা দেয়া হলেও বড় বোনের ছুরি খোলার সাহস পাননি চিকিৎসক।

এ অবস্থায় বেহেশত আরাকে পাঠনো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিকেল ৩টার মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বিকেলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাত ৯টার দিকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে ঢাকা মেডিকেলে।

বেহেশত আরার সঙ্গে থাকা ছেলে বাহাদুর মিয়া বলেন, আমার মা এখনও বেঁচে আছেন। হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। তাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা জিল্লুর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। করিমগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে জিল্লুর রহমান পলাতক। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে। জিল্লুর ঢাকায় অটোরিকশা চালান। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছেন তিনি। তালাক দেয়া ও জমিজমা এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।