নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বাড়ছেই

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত প্রায় এক দেড় মাস ধরে খুব সামান্য সামান্য করে অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কাচা-মিরিচ ধনেপাতাসহ বিভিন্ন শাক-শব্জির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং চাল-ডাল-চিনিসহ প্রতিটি পণ্যের দাম খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৫টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এবারের দ্রব্যমূল বৃদ্ধির টেকনিকটা অন্যান্য বছরের চেয়ে আলাদা। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নজরদারিকে ফাঁকি দেয়ার জন্যই মধ্যসত্ত্বভোগিরা এই পন্থা বেছে নিয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়ে অনেক গেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজারে ২ দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়ে ১৬০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা যায়। কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, ঝড়-বৃষ্টি-বাদলার কারণে সরবরাহের ঘাটতি হয়েছে। সেকারণে মুরগির দাম একটু বাড়তে পারে। কিন্তু সেটা ২ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।
মুরগির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে মনে করছেন এই খুচরা বিক্রেতা। তারা বলেন, ২ দিন আগেও আমরা প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছি ১৪০ টাকায়। আজ সেটা ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গুলিস্তানের কাপ্তান বাজারে মুরগির পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গত এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা বেড়ে কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতে মিনিকেট ৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ টাকা থেকে ৭৮ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা চাল ৩৯ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, গত একমাস ধরে চালের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল আছে। এখন বোরো মওসুমের নতুন ধান উঠা শুরু করবে। তখন চালের দাম আরেকটু কমবে বলেও মনে করেন তারা।
মুরগির পাশাপাশি গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে কয়েকটি সবজির দামও। কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি করল্লা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, ঢেঁড়শ ২৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দুদিন ধরে বেগুন ও পেঁপের দাম আরও কিছুটা বাড়তি বলে জানান সবজি বিক্রেতারা। অনেকে বলেন, সবজির দাম একটু বাড়তি। বৃষ্টি বাদলের কারণে অনেক জায়গায় গাছ মরে গেছে। তাই দাম একটু বেড়েছে।
বাজারে পেঁপে ও বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়তে দেখা গেছে। মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে দীর্ঘদিন পর বেশ কমে এসেছে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। তবে রসুনের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে কয়েকজন বিক্রেতা জানিয়েছেন। গত এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০টাকা বেড়ে কারওয়ান বাজারে দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকায়। সেই হিসাবে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পড়ে ২৪ টাকা।
বিক্রেতারা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল। আগে দাম আরেকটু বেশি ছিল।
বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আদা রসুনের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে রসুনের দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সিরাজউদ্দিন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ৮০ টাকা দরে চায়না রসুন বিক্রি করে আসছিলাম। আজই মোকামে দাম বেড়েছে কেজিতে অন্তত ৫ টাকা। সামনের দিনগুলোতে রসুনের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।পিডিএসও/মুস্তাফিজ









































