নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার পাটের তন্তুতে জিন্স প্যান্ট

বাংলাদেশের পাট দিয়ে জিন্সের প্যান্ট বানানো সম্ভব। যার গুণাগুণ অনেক উন্নত, এটাও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন আমির হোসেন রঙ্গন। প্রথমত, এটা দামে কম ও পরিবেশবান্ধব। ফতুয়া, জামা, শার্ট-প্যান্ট তো বটেই; এই পাটের কাপড় দিয়ে জ্যাকেট বানিয়েছেন রঙ্গন। নিজের দেশের উৎপাদিত পাটে তৈরি করেছেন মুজিব কোট। দেশীয় পাটেই হবে আমাদের পরিধেয় পোশাক- এ স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে চলেছেন আমির হোসেন রঙ্গন। বাংলাদেশ জুট ইকোনমি অ্যান্ড রেভ্যুলেশন নামে একটি ফ্যাশন প্রদর্শনীও করেছেন এর মধ্যে। প্রদর্শনী ঘুরে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অভিনেতা আফজাল হোসেন, শিল্পী আবুল বারক আলভী।
পাট যেহেতু নিজেদের উৎপাদিত পণ্য, পাট দিয়ে যা বানানো হবে পুরোটাই লাভ। এখন আমরা যা করছি তার পুরো কাঁচামাল আসছে বাইরে থেকে। আমরা শুধু মজুরির টাকাটাই পাচ্ছি, বাকি সব চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। সোজা কথায় আমরা মজুরি খাটছি। আমাদের যে গার্মেন্টস শিল্প, এখানে আমাদের প্রাপ্তি সামান্যই। তুলা অথবা সুতা আসে বাইরে থেকে। অনেক সময় কাপড় হয়েই আসে। এখানে শুধু কাটা, সেলাই করা আর প্যাকেট করার কাজ হয়। কিন্তু এ কাপড়টাই যদি বাংলাদেশি সুতায় হয় তাহলে তো পুরোটাই দেশের।
রঙ্গন এক সময় হিসাব কষতে বসে পড়লেন। ৩০০ গ্রাম তুলার দাম ১০০ টাকা। সমপরিমাণ পাটের দাম ১৫ টাকা। তুলা আনতে হয় বিদেশ থেকে আর পাটের কাঁচামাল যেহেতু নিজেদের উৎপাদিত, এর পুরোটাই আমাদের থাকবে। এই পাটের সদ্ব্যবহার করতে পারলে চালু হবে ১২০টি বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকল।
কর্মসংস্থান হবে বেকার হয়ে যাওয়া কোটি কোটি মানুষের। মাটির গন্ধে ভরা পাটের জন্য ভালোবাসা ছিল রঙ্গনের রক্তে। ১৯৪৫ সাল থেকে রঙ্গনের বাবা পাটকলে কাজ করেছেন। শেষ জীবনে এসে তার প্রাপ্য টাকা পাননি পাটকলের পক্ষ থেকে। তারপর একদিন বাবা মোশাররফ হোসেন কোথায় হারিয়ে গেলেন আর খুঁজেই পাওয়া গেল না। এখন বাবার স্মৃতি শুধু কাঠের হাতলওয়ালা একটা চেয়ার।
রঙ্গন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘পাট আমাদের মাটির ফসল। এর মালিকানা আমাদের, আমরা চাইলে কমবেশি পাট ফলাতে পারি। এই পাট দিয়ে উন্নত মানের জিন্স বানানো সম্ভব। চাইলে কেবল এর মাধ্যমেই পাটকে আমরা আবারও বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে পারি।
"








































