নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২২ জুলাই, ২০১৭

আইসিটি আইনে সাংবাদিক নির্যাতন হচ্ছে : বিএনপি

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা দিয়ে সরকার সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে অভিযোগ করে অবিলম্বে আইনটির ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে সরকার। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। গতকালও একজন সিনিয়র সাংবাদিককে ৫৭ ধারায় আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। পর্নোগ্রাফি ও আইসিটি আইনে একজন সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক যুগান্তর’-এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা তাকে কারাগারে পাঠান।

রিজভী বলেন, ‘আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায়। বর্তমানে ৫৭ ধারার ভয়াবহতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানসহ সব কালা কানুন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’ সেই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

নতুন করে সরকারের তৈরি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়াকে ‘আরো ভয়াবহ’ বর্ণনা করে রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি, ৫৭ ধারা থেকে আরো ভয়াবহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করতে যাচ্ছে সরকার। সেই আইনের ১৯ ধারায় গণমাধ্যমকে আরো শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। ওই আইনের খসড়ার ১৯ ধারায় বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার সব বিষয় বিদ্যমান রয়েছে। এই ১৯ ধারায়ও তথাকথিত মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা বিশেষভাবে রাখা হয়েছে।’

প্রস্তাবিত আইটির খসড়ার ১৫(৫) ধারায় যে বিধান রাখা হয়েছে, তা চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরেকটি বড় খড়্গ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কারণ, এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো বক্তব্য সরকারি ভাষ্যের বিপরীত হলে তা ‘ডিজিটাল সন্ত্রাসী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে।

এসব বিষয়ে সরকার একটি নির্দিষ্ট ছক অনুসরণ করছে অভিযোগ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, প্রকৃত ইতিহাস ও প্রকৃত ঘটনা বাংলাদেশে চলবে না। আওয়ামী গবেষণা, আওয়ামী ছক, আওয়ামী নীলনকশা অনুযায়ী কথা বলতে হবে।

রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারের এসব কালাকানুন ও নীতিমালা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং তাদের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মিডিয়া তথা ওয়েবসাইট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি হস্তক্ষেপ।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist