রফিকুল ইসলাম রনি, চাটমোহর (পাবনা)

  ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মাশরুম চাষে সফলতা

মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ঔষধি গুণ সম্পূর্ণ খাবার। পুষ্টি ও ঔষধি গুণ থাকায় এরই মধ্যে এটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মাঝে মাশরুম চাষে বেশি আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষে বেকার সমস্যার সমাধান ও বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। মাশরুম বীজ উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামালের প্রয়োজন হয়ে থাকে যেমন- খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভূসি ইত্যাদি এসব জিনিস আমাদের দেশে সহজলভ্য ও সস্তা।

বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করে এরই মধ্যে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন পাবনা চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল গ্রামের আবদুল হালিম নামের শিক্ষিত এক যুবক। সরেজমিন কথা হয় তরুণ উদ্যোক্তা আবদুল হালিমের সঙ্গে। হালিমের বাবা পেশায় একজন শিক্ষক, মা গৃহিণী, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে আবদুল হালিম মেঝো। তরুণ এই উদ্যোক্তা ডিগ্রি করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি জীবন শুরু করে। করোনার কারণে চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন আবদুল হালিম। চাকরি বা কোনো ব্যবসা না থাকায় হতাশায় পড়েন তিনি। পরে মাশরুম চাষ বিষয় জানতে পেরে ঢাকা মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ শেষে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঔষধি ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ৫০টি স্পন প্যাকেট নিয়ে ২০২০ সালে মাশরুম চাষ শুরু করে আবদুল হালিম। বসত ঘরের ছোট একটি জায়গা নিয়ে মাশরুম চাষের যাত্রা শুরু হয় তার। বর্তমানে আবদুল হালিম মাশরুম চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছে। তিনি জানান, প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ হতে ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ২ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় ২ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। সে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকে। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও শুকানো মাশরুম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। সে উৎপাদিত মাশরুম ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন। এছাড়াও কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুম পাঠিয়ে থাকেন বলে তিনি জানান। তার খামারে মাশরুম চাষে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করছে। তাদের প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতে আরো বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে হালিমের খামারে এক হাজারের অধিক মাশরুমের খড়ের স্পন প্যাকেট রয়েছে এ থেকে তিনি প্রায় ৫০০ কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ২ লাখ টাকা।

তরুণ উদ্যোক্তা হালিম আরো বলেন, মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম বীজ (স্পন) উৎপাদন করেন তিনি। তার উৎপাদিত মাশরুম বীজ (স্পন) দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মাশরুম খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি এবং লাভজনক ব্যবসা। তার মাশরুম চাষ দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক আগ্রহী হচ্ছে এ পেশায়। তার মাশরুম খামার দেখে অনেকে তার খামারের বীজ নিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেছে। হালিম বলেন, সরকারিভাবে এই খাতে যদি কৃষি ঋণ কিংবা সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে শিক্ষিত বেকার যুবকরা মাশরুম চাষ করে বেকারত্ব দূর করতে পারবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি দ্রব্যের সহজ সরল নাম মাশরুম। মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবারের পাশাপাশি মাশরুম চাষ অনেক লাভজনক। মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। উপজেলায় বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে ১২টি পয়েন্টে মাশরুম চাষ হচ্ছে। তা থেকে প্রায় ২ টন মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়