কর্মসংস্থান সৃষ্টির তহবিল ব্যবহারে নীতিমালা

* মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার ৫৮ শতাংশ * নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে উদ্বেগ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে রফতানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা নিরসনে তহবিল ব্যবহারে নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালা-২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দক্ষ জনশক্তি একটি জাতির সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য খুবই অপরিহার্য। এ কারণে দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

এদিকে, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বর্তমান সরকারের সময়ে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৫৩টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩১টি। ২২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঁচটি নীতি বা কৌশল, দুটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে পাঁচটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার মোট ১৬টি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলোতে গ্রহণ করা ১৬১টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ১২২টি। বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্ত রয়েছে ৩৯টি।

অন্যদিকে, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। একজন ছাত্র যে অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে, বেশ কয়েকজন এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। সবাই এ বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একটা স্কুলে কিশোরদের নিয়ে যখন এ ধরনের প্রোগ্রাম করবে তখন সেখানে ইলেকট্রিক তার টানানো হয়েছে সেগুলোর সেফটি মেজারটা দেখা উচিত ছিল। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুতের তার টানানো হয়েছিল সে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়েই আবরার মারা গেছে। এখানে আয়োজকদের গাফিলতি ছিল কি না সে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সবাই এটায় অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করছেন এ কারণে যে, একটা ছেলে মারা যাওয়ার পরও অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গতকালের তহবিল প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিল্প দক্ষতা পরিষদ, অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, চর ও হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পথশিশু, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসী, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, চাকরিপ্রার্থী, বেকার বিদেশগামী কর্মী, বিদেশ প্রত্যাবর্তন কর্মী আলাদা আলাদা কর্মসূচিতে এই তহবিলের সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম ও গবেষণা সমীক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান প্রদান করার ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক নিষ্পত্তি করবে এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কোম্পানিকে প্রত্যাশী প্রতিষ্ঠানকে অনুদান প্রদানে অনুরোধ জানাবে।

অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কোম্পানি গঠন করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থ বরাদ্দের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ প্রদানকারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া, অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা নির্ধারণ, প্রশিক্ষণার্থীকে উপবৃত্তি প্রদানের মানদ- নির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম গবেষণা সমীক্ষা ও উদ্ভাবন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং তহবিলের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার চলমান প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে এবং দক্ষ জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার সমস্যার নিরসন হবে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

"