আরিফ খান, বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা)

  ১৪ জুন, ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া

এক দশকেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণ, দুর্ভোগ চরমে

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামে এলাকাবাসীর অর্থায়নে শুরু হওয়া একটি সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় এক দশকেও শেষ হয়নি। জনপ্রতিনিধির খামখেয়ালি ও অর্থ তসরুফের কারণে সুতিখালী নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুটি এখন পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগের প্রতীকে।

অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুর পিলারে ধরেছে ফাটল, খুলে পড়ছে কংক্রিট, আর রডে জমেছে মরিচা। ফলে একদিকে যেমন জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে, অন্যদিকে সেতুর অভাবে কবরস্থানে মরদেহ দাফন থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য পরিবহন সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিটাপাড়া গ্রামের একমাত্র কবরস্থান ও অধিকাংশ আবাদি জমি সুতিখালী নদীর উত্তর পাশে অবস্থিত। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় দক্ষিণপাড়ার মানুষের মরদেহ দাফন করতে নৌকা কিংবা কখনো সাঁতরে যেতে হয়। আক্ষেপ করে তারা জানান, একটি সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি গ্রামের জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ।

ভিটাপাড়া গ্রামের মানুষ সেই মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। অর্ধনির্মিত এই সেতু এখন তাদের হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে এমনটাই আশঙ্কা তাদের।

গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে মরদেহ নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। অনেক সময় সাঁতরেও নিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।’ জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। উদ্যোগ নেন তৎকালীন ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন। কিছুদিন কাজ চলার পরই অর্থ সংকটে থমকে যায় নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত কাজ, সমন্বয়হীনতা ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে।

ভিটাপাড়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা সখিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ জমি নদীর ওপারে। সেতু না থাকায় ফসল আনা-নেওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

দুদু প্রামাণিক বলেন, ‘সেতুটি হলে দুই পারের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, কৃষিতেও বড় উন্নতি আসবে।’

তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, সেতুর অভাবে ভিটাপাড়া দক্ষিণপাড়ার লোকজন মরদেহ দাফন করাসহ বিভিন্ন কাজে দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত সেতুটি সম্পন্ন করা জরুরি। না হলে নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হবে।

এলজিইডির সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি এখনো এলজিইডির তালিকাভুক্ত নয়।

সড়কটি তালিকাভুক্ত করতে গত এপ্রিল মাসে উপজেলা পরিষদের সভায় রেজুলেশন করে পাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত হলেই কাজ শুরু করা হবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়