রাজু আহমেদ, কুড়িগ্রাম

  ২৩ ঘণ্টা আগে

মাল্টায় ঘুচবে কুড়িগ্রামে বেকারত্বের অভিশাপ

পাহাড়ে মাল্টা চাষের সফলতার গল্প অনেক আগের। আর সেই পথ ধরে এখন সমতলেও পুষ্টিকর এই সুস্বাদু ফল চাষ হচ্ছে কুড়িগ্রামে। শখের বসে সমতল ভূমিতে মাল্টা চাষ করে হাজারো বেকার যুবককে দিনবদলের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের যুবক আবু রায়হান ফারুক। শখের বাগানের কমলা বিক্রি করে এখন লাখপতি ওই যুবক।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে যুবক আবু রায়হান ফারুক। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। পড়ালেখা শেষে চাকরি না করে ইউটিউব দেখে ২০১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন মাল্টা চাষ। বর্তমানে সাড়ে সাত একর জমি জুড়ে মাল্টার বাগান রয়েছে তার। প্রতি বছর ৪-৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন যুবক আবু রায়হান ফারুক।

ফারুকের বাগানে বিভিন্ন জাতের ফলের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৭০০ মাল্টার গাছ, ৪০০ পেঁপে গাছ, ৬০০ আমগাছ, ৩০০ কমলা গাছ, এক হাজার পেয়ারা ও ১৩০টি আঙুর গাছ। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমি থেকে এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা যায়। জেলাজুড়ে ফারুকের সফলতার গল্প ছড়িয়ে পড়ায় মাল্টায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। ধীরে ধীরে এখন সম্ভাবনাময়ী মাল্টা চাষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।

মাল্টা চাষী কৃষি উদ্যোক্তা আবু রায়হান ফারুক বলেন, কুড়িগ্রাম একটি দারিদ্রপীড়িত জেলা। এখানে বেকার সমস্যা প্রকট। আমি চাই আমার বাগান দেখে যাতে যুবকরা অনুপ্রাণিত হয়। আমি আশা করি সরকার সহযোগিতা দিলে রংপুর বিভাগে মাল্টা চাষে একটা বিপ্লব তৈরি করতে পারব। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের সর্বনিম্ন দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা জেলার হাজারো যুবকের জীবনে ঘুচবে বেকারত্বের অভিশাপ।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, কুড়িগ্রামে মাল্টা চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুবক ফারুক। জেলায় ইতোমধ্যে ফারুকের মাল্টা বাগানে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা গাছ লাগানা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চাহিদা পূরণে বাইরের জেলা থেকে আমদানি করতে হবে না মাল্টা। আগামীতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close