চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১১ জুন, ২০২১

নাচোলে মাছের কারবার

নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর বিক্রি হচ্ছে দেদারছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছের পোনা। উপজেলার নেজামপুর বাজারের হাটবাকইল রোডে মা-বাবা নার্সারির সাইন বোর্ডের আড়ালে চলছে এ মাছের কারবার। নার্সারির মধ্যে হাউস বানিয়ে ঢাকা থেকে নিয়ে এসব মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখান থেকেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। নাচোল রেলস্টেশন বাজার এলাকার তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তিন বছর ধরে এ মাছের কারবার করে আসছেন। ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ হওয়া মাগুর বিক্রি হচ্ছে নাচোলসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে।

আইন অনুযায়ী, আফ্রিকান রাক্ষুসে মাগুর মাছ আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হলেও বাজারে এ মাছ বিক্রি হচ্ছে অবাধে। নিষিদ্ধ এ মাছের বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। ফলে প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাছের হাউস থেকে পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে। দুজন খুচরা বিক্রেতা মাছ নেওয়ার জন্য হাউসে নেমে মাছ ধরছেন। ওই এলাকার আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এ মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ বা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, এটা তাদের জানা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে অন্য মাছের তুলনায় দামে কিছুটা কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা জানেন না মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকারক এ মাছ, তাই বাজার থেকে সহজে কিনছেন অনেকে। এতে ভোক্তারা শুধু প্রতারিত হচ্ছেন না, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে।

নিজেকে আড়তদার দাবি করে নিষিদ্ধ মাছের কারবারি তরিকুল ইসলাম বলেন, এখানে মাছের চাষ হয় না। ঢাকা থেকে আসা মাগুর এখানে রেখে বিক্রি করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাকে এসব মাছের কারবার বন্ধ করতে বলেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে মৎস্য কর্মকর্তা সতর্ক করার পরও কেন এ মাছের কারবার করছেন এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন শামীম বলেন, বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে আফ্রিকান মাগুর সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাক্ষুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজপ্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর মাছ উৎপাদন, চাষ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

এ প্রসঙ্গে নাচোল ইউএনও সাবিহা সুলতানা বলেন, এর আগে একাধিকবার বিক্রি নিষিদ্ধ মাছের কারবারিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আইনগতভাবে আফ্রিকান মাগুর মাছ সংরক্ষণ বা বিক্রির সুযোগ নেই। কেউ এ কারবারে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়