রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম
রাতের আঁধারে লোহাগাড়ায় পাহাড়ের মাটি লুট

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মাটি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদপাড়ায় একটি পাহাড়ের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। এতে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ‘মাটিখেকো সিন্ডিকেট’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তবে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পান না অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহখানেক আগে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদপাড়া এলাকায় আনোয়ারের নেতৃত্ব আরো কয়েকজন মিলে সবুজে আচ্ছাদিত বিশাল আকৃতির একটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখে। পাহাড়ের মাটি ট্রাকভর্তি করে বিক্রি করছে। পাহাড়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। পাহাড়টি কেটে ফেলার কারণে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বসতঘর হুমকির মুখে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলেই পাশের ঘরগুলো ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমদের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বলেন, পাহাড়টির পাশে আমার বসতঘর। পাহাড় কাটার কারণে ভারী বৃষ্টি হলেই আমার বসতঘর ধসে যাবে। কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে ডাম্পার ট্রাকে করে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকার বাসিন্দা সোহেলের কাছ থেকে পাহাড়ের মাটি কিনেছি। প্রতি ডাম্পার ভর্তি অনুসারে পাহাড়ের মাটিগুলো তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। তাও একদিন পাহাড়ের মাটি কিনে কেটেছি। একদিনের পরে আর মাটি কাটিনি। বাকি পাহাড়ের মাটি অন্য কেউ কাটতে পারে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, তার চাচি আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্য বেশি হওয়ায় বাড়ি করতে হচ্ছে। তাই পাহাড়টি কাটা হয়েছে। আমার ভাশুর পুত মমতাজ কিছু জায়গা ভরাট করেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অপরাধ। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়োজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ অপরাধ। পাহাড় কেটে যারা সাবাড় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"






































