সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
লক্ষাধিক তাঁত কারখানা বন্ধ বেকার আড়াই লাখ শ্রমিক

কাপড় তৈরিতে সুতা, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যাদির মূল্য বাড়তে বাড়তে এখন সুতার দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জের অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৬০০ টাকার একটি শাড়ি এখন তৈরি করতে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। পক্ষান্তরে উৎপাদিত কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারছেন না তাঁতিরা। স্থানীয় সুতার মিল মালিকরা দফায় দফায় ইচ্ছামতো সুতার মূল্য বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ তাঁতিদের। এদিকে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলার মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছে মিল মালিকরা। কিন্তু মজার বিষয় হলো তুলার মূল্য বেড়েছে পাউন্ড প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা, আর মিল মালিকরা সুতার মূল্য বৃদ্ধি করেছে প্রতি পাউন্ডে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। দ্রুত এ মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো না গেলে তাঁতশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এরই মধ্যে লক্ষাধিক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে এবং আড়াই লাখ তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।
তাঁত মালিকরা বলছেন, সুতা, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যাদির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় কাপড় উৎপাদনে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকরা।
তাঁতসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ (হস্তচালিত ও বিদ্যুৎ চালিত) তাঁত রয়েছে। গত চার মাসে লক্ষাধিকেরও বেশি তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে আড়াই লাখ তাঁত শ্রমিক। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি মনোয়ার হোসেন ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক একরামুল হক রিজভীসহ অনেকেই জানান, তাঁত শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষাকল্পে ও বেকার তাঁত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সঠিক নজরদারি হলেই কেবল এ শিল্পকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এই বিপর্যস্ত থেকে অতি দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডকে চলমান আমদানি সুবিধা প্রদানের জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমদানি সুপারিশ প্রদান করতে হবে। স্থানীয় মিলের সুতার মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সুতার সহিত প্রতিযোগিতামূলক কম মূল্যের পলিস্টার সুতার আমদানি ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আগে থেকেই এ ব্যবস্থা চালু থাকলেও অজ্ঞাত কারণে আমদানি সুপারিশ ইস্যু করা হচ্ছে না। এছাড়া করোনা মহামারির মোকাবিলায় আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থার প্রয়োজন। সেইসঙ্গে স্থানীয় সুতা মিল মালিকদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডে তাঁতশিল্পের উন্নয়ন কাজের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে আছে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। রং এবং সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করার কথাও বলেন তারা।
এদিকে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ৫ লক্ষাধিক (বিদ্যুৎচালিত ও হস্তচালিত) তাঁত রয়েছে, এসব তাঁতে শাড়ি-লুঙ্গি উৎপাদনের জন্য কাজ করছে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক। সুতা, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে এসব তাঁত বন্ধ হয়ে গেলে বেকার হয়ে পড়বেন বিশাল জনগোষ্ঠী। এরই মধ্যে লক্ষাধিক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আড়াই লাখ তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
"







































